চকরিয়ায় বন্যহাতি হত্যা করে মাটিচাপা, আলামত গোপনে ঘর নির্মাণ
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ ৫:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি বন্যহাতিকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার অভিনব কৌশলের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে।
উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দুর্গম বনাঞ্চলে হাতিটিকে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি আড়াল করা যায়।
বন বিভাগের টহলদল এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে ওই ঘরের নিচে পুঁতে রাখা হাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে বন বিভাগ, পুলিশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।
স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নগর ও করিম্মা কাটার ঘোনা এলাকার গভীর বনে আনুমানিক ১০ বছর বয়সী একটি হাতিকে হত্যা করা হয়। অপরাধীরা হাতিটিকে গর্তে পুঁতে রেখে ওপরেই একটি ছোট কাঁচা ঘর তৈরি করে, যাতে বাইরে থেকে দেখে কেউ সন্দেহ না করে।
সম্প্রতি এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে বন বিভাগের নলবিলা বনবিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের নিচে পচনধরা মরদেহের সন্ধান পান। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহে অংশ নেন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, চকরিয়া থানা ও ফাইতং ফাঁড়ি পুলিশ এবং নলবিলা ও ফাইতং বনবিটের কর্মকর্তারা।
ময়নাতদন্ত শেষে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাতিটিকে গুলি করে অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পচন বেশি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে ল্যাব পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে