সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি আংশিক উন্মুক্ত: বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দিল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।

ইরানের ঘোষিত এই তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নাম রয়েছে। তেহরান বলছে, এসব দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। তিনি জানান, অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যাদের ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

আরাগচি বলেন, “চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের জাহাজ ইতোমধ্যে এই পথে চলাচল করেছে। এমনকি বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ—তাদের জন্য এই প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি থেকে ফিরিয়ে দেয় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা থেকে করাচিগামী ‘সেলেন’ নামের জাহাজটির ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় মাঝপথ থেকেই সেটিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের এই নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করলেও মার্চ মাসের ১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। গবেষণা সংস্থা কেপলারের হিসেবে, এ সময়ে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। এর প্রভাবে বিমান সংস্থা থেকে শুরু করে খুচরা বাজার—সবখানেই ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক দেশ আবারও জরুরি সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথা বিবেচনা করছে।

১৪৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন