ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বসন্তের রঙিন উৎসব, ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ পথচারী
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ ৬:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজনে ফুটে ওঠা নানা রঙের ফুলে বসন্তের এক মনোমুগ্ধকর রূপ দেখা যাচ্ছে। ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশাল এলাকার মহাসড়কজুড়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ এখন দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করেছে। রঙিন ফুলের সমারোহে অনেকের কাছে এটি যেন জাপানের কোনো মনোরম স্থানের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলমুখী ব্যস্ত এই মহাসড়কের ডিভাইডারজুড়ে ফুটেছে রক্তিম পলাশ, হালকা ও গাঢ় গোলাপি জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা, নীল কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জারুল, কদম, বকুলসহ নানা প্রজাতির ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন রঙিন গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে সড়কের মাঝখানে।
মনোরম এই দৃশ্য দেখতে অনেক যাত্রী গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন এবং ভিডিও ধারণ করছেন। কেউ কেউ গাড়ির জানালা দিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। উত্তরা থেকে আসা শিক্ষার্থী আহনাফ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জায়গার ভিডিও দেখেছিলাম। সরাসরি এসে দেখার পর মনে হচ্ছে যেন অন্য এক পরিবেশে চলে এসেছি।”
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে মহাসড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ডিভাইডারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ রোপণ করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যা ও ছাঁটাইয়ের ফলে বর্তমানে গাছগুলো পরিপূর্ণতা পেয়েছে এবং বসন্তে ফুলে ভরে উঠেছে।
সওজ ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মহাসড়ক শুধু যানবাহন চলাচলের পথ নয়, এটি জনপদের একটি মুখচ্ছবি। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি সড়কের নান্দনিকতা বাড়ানো সম্ভব।”
ঢাকা থেকে নেত্রকোণাগামী এক যাত্রী জানান, দীর্ঘ পথযাত্রা অনেক সময় একঘেয়ে হয়ে যায়। কিন্তু এই অংশে এসে চারপাশের ফুলের সৌন্দর্য চোখে প্রশান্তি এনে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে এলাকার পরিচিতিও বাড়ছে। অনেকেই এখন বিশেষভাবে এই অংশে এসে ছবি তুলছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, মহাসড়কের দুই পাশে ও বিভাজনে গাছের সারি ধুলাবালি ও কার্বন শোষণে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং আশপাশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ভবিষ্যতে পুরো মহাসড়কজুড়ে এ ধরনের সবুজায়ন করা হলে এটি একটি আকর্ষণীয় সবুজ করিডর হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
মহাসড়কের ডিভাইডারে বর্তমানে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনক চূড়া, কনক চাঁপা, কদম, কাঠবাদাম, জারুল, রক্তকরবী এবং জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।
সওজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গাছ পুনরায় রোপণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এসব গাছের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ফলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কটি কেবল যাতায়াতের পথ নয়, বসন্তের রঙিন সৌন্দর্যের এক দৃষ্টিনন্দন করিডর হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে