সিলেটে অবৈধ মাটি কাটা: মন্নানের ৬ মাসের কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কল্লগ্রাম এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধ ও খাল ভরাটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে মো. আব্দুল মন্নান নামের এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোশনূর রুবাইয়াং। এ সময় অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, অবৈধভাবে কল্লগ্রামের নিকটবর্তী কৃষিজমির উপরিভাগের টপ সয়েল কেটে তা হৈরখাল ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এছাড়া খাল ভরাটের ফলে নিকটবর্তী জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এ ঘটনায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ লঙ্ঘনের দায়ে মো. আব্দুল মন্নানকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে আরও দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী মালিকানাধীন জমির সীমানা পিলারও অপসারণ করেছেন। ঘটনাস্থলে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তার নামে ওই স্থানে কোনো বৈধ মালিকানা কিংবা মাটি ভরাট বা মাটি কাটার কোনো অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং অপরটি সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বিলিবন্দেজ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াং বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মো. আব্দুল মন্নানকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ লঙ্ঘনের দায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং অপরটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বিলিবন্দেজ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষিজমি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে