নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় নেওয়ার প্রস্তাব, রাজশাহীতে তোলপাড়
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ ৭:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-র প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবকে ঘিরে রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে একটি আধাসরকারি (ডিও) চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করতে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজশাহীতে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। নিজ জেলার সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ডিও লেটারে তিনি উল্লেখ করেন, নেসকোর অপারেশনাল এলাকা উত্তরের তেঁতুলিয়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত।
কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগর অনেক কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না বলে তিনি দাবি করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বগুড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় সেখানে নেসকোর সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি আসবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব হবে বলেও মত দেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে দ্রুত নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর সদয় ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত কামনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর একজন প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সানাউল হকর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রস্তাবটি ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকাকালে বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বগুড়ায় সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। আবার যদি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহীতে আমরা সোচ্চার থাকি। সদর দপ্তর বগুড়ায় চলে গেলে এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ কমে যাবে। আমরা চাই নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকুক। অন্যথায় রাজশাহীবাসী নেসকো রক্ষায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
এ বিষয়ে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, লোকমুখে বিষয়টি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। কর্মকর্তাদের কাছেও জানতে চেয়েছি, তারাও কিছু জানাতে পারেনি। সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই চলতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম বলেন, একটি ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। এরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে