জ্বালানি বকেয়া, ৬ মাস বন্ধ ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ২:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী ভোলাহাট উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। এতে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনা কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ভোলাহাট উপজেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর চাপের কারণে শয্যাগুলো প্রায়ই পূর্ণ থাকে। জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করতে হয়।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী যাওয়ার নির্ধারিত ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা হলেও, সেটি বন্ধ থাকায় রোগীদের এখন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে রাজশাহী যেতে গুনতে হচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এই বাড়তি ব্যয় বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা ব্যবহার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক। জরুরি মুহূর্তে বিকল্প গাড়ি খুঁজতে গিয়ে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দালালচক্রের কবলেও পড়তে হচ্ছে অনেককে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
মাসুদ নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু থাকলে সাশ্রয়ী খরচে রাজশাহী নেওয়া সম্ভব হতো। এখন অতিরিক্ত এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে শুধু এই অব্যবস্থাপনার কারণে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি সরবরাহকারী পেট্রোল পাম্পে প্রায় ১৪ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি প্রায় ১১ লাখ টাকা এখনও অনাদায়ী রয়েছে। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকায় পুরো বকেয়া পরিশোধ সম্ভব হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। ফলে ছয় মাস ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, জরুরি সময়ে এই সংকট কোনো বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে