রংপুরে ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ ৭:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর নগরীতে ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ক্যাবল ওয়ানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং পুরো পরিবারকে গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার গভীর রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়।
বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুর রহমান মনু এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিব। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত দুই নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ, ক্যাবল অপারেটর ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় ক্যাবল ওয়ানের ডিশ লাইনের সংযোগ কেটে দেওয়ায় ওই এলাকায় টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট ফিডারের লাইন পরিচালনা করতেন স্থানীয় এক যুবক। ওই ফিডার গালিবের নামে দেওয়ার জন্য ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষকে কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় রোববার দুপুর ২টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাব ভবনের উল্টো দিকে অবস্থিত ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে মনু ও গালিবের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা মনু রোববার রাতের মধ্যে ফিডার গালিবের নামে না দিলে ক্যাবল ওয়ানের জিএম কাফির বাসায় গিয়ে শোবার ঘরে ঢুকে তাকে ও তার পুরো পরিবারকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় এক কর্মকর্তাকে মারধর এবং ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর আতঙ্কে ক্যাবল ওয়ানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয় ত্যাগ করেন। প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায় ডিশের মাধ্যমে টেলিভিশন সম্প্রচার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ থাকে।
পরবর্তীতে দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোর থেকে ডিশ লাইন পুনরায় সচল করা হয় এবং সম্প্রচার শুরু হয়।
এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রংপুরসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে প্রবেশ করে সেখানে কর্মরত ম্যানেজার পরাগের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জিএম কাফির সঙ্গে কথা বলেন। তারা রাতের মধ্যে কামাল কাছনা এলাকার ডিশ লাইনের ফিডার গালিবের নামে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। তা না হলে বাসায় গিয়ে শোবার ঘরে ঢুকে তাকে ও তার পরিবারকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়ে।
ঘটনার পর ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে। দাবিগুলো হলো- ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাবল ওয়ানের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।” মামলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে?”
এ বিষয়ে যুবদল নেতা মনুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জেলা যুবদলের কোনো নেতাও ফোন রিসিভ করেননি।
পরে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজাহান আলী বলেন, লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় তিনি রাত ৩টা পর্যন্ত থানায় ছিলেন। অভিযোগ না পেলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
১১৯ বার পড়া হয়েছে