গাইবান্ধায় মানবতার নিরাপত্তাবলয় গড়ছে ‘গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা’
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধার ছিন্নমূল, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা।
ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধকে ভিত্তি করে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি নীরবে-নিভৃতে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠার ছয় বছরের মধ্যেই সংগঠনটি গাইবান্ধা জেলায় এক ধরনের মানবিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মরদেহ সংরক্ষণে তাদের উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাত্র একটি ফ্রিজিং কফিন ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ১৮০টি মরদেহ সংরক্ষণ করেছে তারা। জেলার কোথাও মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে একমাত্র এই কফিনটিই বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
রমজান মাসে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। স্টেশন, ফুটপাত, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ঘুরে ছিন্নমূল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে সেহেরি বিতরণ করেন সদস্যরা। দিনমজুর, পথশিশু, বৃদ্ধ কিংবা ভবঘুরে—যেই হোন না কেন, তাদের জন্য অন্তত একবেলার খাবার নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়।
মানবিক সহায়তার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থাও করেছে সংগঠনটি। অসহায় পরিবারের ছেলে-মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষার উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমানে সংস্থাটিতে ১০০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। তারা নিজ নিজ সামর্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবার মনোভাব নিয়ে প্রতিদিন সমাজের বিভিন্ন স্তরে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। দিন-রাত যেকোনো সময়ে কারো মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা বিপদের খবর পেলেই সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কায়ছার প্লাবন জানান, মানবসেবাকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করেই এই সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা আমাদের প্রথম লক্ষ্য। এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করতে করতে ছয় বছর পার হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আমরা একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে অসহায় ও নিঃস্বজন প্রবীণ মানুষদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।”
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংস্থাটির সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন, “গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা এখন শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি মানবতার কান্ডারী। অচেনা মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ তারা দেখাচ্ছে, তা গাইবান্ধা সমাজে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।”
১২০ বার পড়া হয়েছে