ভাষার চেকপোস্ট
বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
তবে কী ভাষার 'শব্দ' এখন আর ভাব প্রকাশ কিংবা ভালোবাসার সেতু নয়, বরং এক একটা উঁচিয়ে রাখা ছুরি--- আমাদের জিভের ডগায় এখন অদৃশ্য কাঁটাতার!
‘স্বাধীনতা’ বললে একদল সন্দেহ করে, ‘আজাদী’ বললে অন্যদল খড়্গহস্ত হয়। যেন শব্দেরও আলাদা পাসপোর্ট চাই, আলাদা কোনো এক পরম আনুগত্যের প্রমাণপত্র।
অথচ নিপীড়িত মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন তার যন্ত্রণার নাম কি শুধুই ‘নিপীড়ন’? নাকি সেই আর্তনাদকে ‘জুলুম’ বললেই তা বেশি অপরাধী হয়ে ওঠে?
এই যে ন্যায়বিচারের বদলে ‘ইনসাফ’ বা যুদ্ধের বদলে ‘ইনকিলাব’ বেছে নেওয়ার দ্বৈরথসমর—এ তো ভাষাকে সমৃদ্ধ করা নয়, বরং তাকে জবাই করে খণ্ড খণ্ড করা।
আমরা অক্ষরকে আত্মস্থ করি ঠিকই, কিন্তু সেই আত্মস্থতায় ভক্তির চেয়ে জেদ বেশি। আমরা ব্যাকরণের শুদ্ধতা খুঁজি না, খুঁজি কার শব্দ কত বেশি রাজনৈতিক ভাবে ধারালো।
একপক্ষ যখন ভাষার শরীরে শুদ্ধিকরণের কাঁচি চালায়, অন্যপক্ষ তখন পালটা অভিধান দিয়ে বানাতে চায় দুর্ভেদ্য প্রাচীর।
কিন্তু ভক্তি কি শুধু হরফের জ্যামিতিতে আটকে থাকে? অন্তরের আর্তি তো কোনো ডিকশনারি মেনে জন্ম নেয় না। যখন রক্ত ঝরে, তখন সেই লাল রঙের কি কোনো ভিন্ন অর্থ হয়?
নাকি ইনসাফের দাবিতে ওঠা হাতগুলো স্বাধীনতার মানে বোঝে না?
আমরা ভাষাকে খণ্ডিত করছি ঠিকই, কিন্তু আদতে খণ্ডিত করছি আমাদের সামষ্টিক চেতনাকে।
মুখের ভাষা আর বুকের ভাষার মাঝখানে যখন রাজনীতির এই বিষাক্ত অনুবাদ ঢুকে পড়ে, তখন শব্দরা অনাথ হয়ে যায়। অক্ষর তখন আর কবিতা লেখে না; লেখে কেবল ঘৃণার ইশতেহার।
অথচ ভাষার কাজ ছিল মানুষকে মেলানো, বিভাজন করা নয়।
---যে ভাষায় হৃদয়ের স্পন্দন নেই, তা স্রেফ মৃত অক্ষরের মিছিল—সেখানে ‘স্বাধীনতা’ থাকুক আর ‘আজাদী’, তা শুধুই অর্থহীন শোরগোল--গভীর গণ্ডগোল ।
১২০ বার পড়া হয়েছে