গোপালগঞ্জে জেলেদের বিকল্প আয়ের জন্য বকনা বাছুর বিতরণ
বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ৬০ জন নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চত্বরে উপজেলা মৎস্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জহিরুল আলম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো: খায়রুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো: আইয়ুব আলী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রাকিবুল ইসলাম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিতরণ অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৬০ জন প্রান্তিক নিবন্ধিত জেলেদের হাতে ১টি করে বকনা বাছুর তুলে দেওয়া হয়। উপকারভোগীরা সরকারের এই সহায়তা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা জানান, মাছ ধরা ছাড়াও গবাদি পশু পালন তাদের সংসারে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। এতে মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা তাদের জন্য সহজ হবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “জেলেরা যেন শুধুমাত্র মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল না থাকেন, এজন্যই দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন ও বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে মাছের প্রজনন মৌসুমে যখন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, তখন অভাবের তাড়নায় জেলেরা যেন মাছ বা শামুক নিধন না করেন, তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবাদি পশু পালন তাদের জন্য টেকসই আয়ের পথ তৈরি করবে।”
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জহিরুল আলম বলেন, “বাছুরগুলো লালন-পালনের মাধ্যমে জেলেরা দুগ্ধ উৎপাদন ও বিক্রয় করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। কেউ যদি বাছুর বিক্রি করে, তার প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১০৬ বার পড়া হয়েছে