বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫ নম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়নে এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখল, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান (৬০), যিনি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। অভিযোগে তাঁর ছেলে নুরুল আমিন, বড় ভাই হাচু মিয়া (৬৫) এবং আত্মীয় আবুল কালামসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
এক জমি একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহমান বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করলেও পরবর্তীতে সেই জমি বুঝিয়ে না দিয়ে নানা কৌশলে হয়রানি করেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি জমি দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
এক ভুক্তভোগীর দাবি, ২০০৭ সালে একটি মামলায় কারাভোগের সময় আর্থিক সংকটে পড়ে আবদুর রহমান তাঁর আত্মীয় নুরুল আলমের কাছে চার একর জমি বিক্রি করেন। তবে ২০১৫ সালে ওই জমি পুনরায় নিজেদের দখলে নিয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এর মধ্যে একটি মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।
আত্মীয়স্বজনের জমি নিয়েও বিরোধ
অভিযোগ রয়েছে, আবদুর রহমান তাঁর এক ভাগনি ও ভাগনি জামাই মজিব উল্লাহর কাছেও জমি বিক্রি করেন। মজিব উল্লাহ পরবর্তীতে জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপরজন জমি বুঝে পাননি বলে জানা গেছে। পরে বিক্রয়মূল্যের আংশিক অর্থ ফেরত দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া তাঁর ছোট দুই ভাই সোনা আলী ও খুইল্যা মিয়ার পৈতৃক সম্পত্তি একবার বিক্রি করে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে পরবর্তীতে একই জমি অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি ও দখল দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী দিলদার মিয়াকে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে নির্যাতন করা হলে তিনি ২০১২ সালে এলাকা ছেড়ে রামু উপজেলায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ২০১৬ সালে এলাকার এক মসজিদের ইমামকে ‘জঙ্গি’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি পরবর্তীতে মুক্তি পান। স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া প্রতিবেশী হাকিম আলীকে তাঁর নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ করে অন্যত্র বসবাসে বাধ্য করার অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
মিথ্যা মামলার অভিযোগ ও তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। প্রতিবাদ করলে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
অভিযুক্ত আবদুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
১৩০ বার পড়া হয়েছে