তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। সকাল ১০টা ৪৫ জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
বিকেল চারটায় একই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। সাধারণত স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী সিইসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
ঐতিহ্য ভেঙে এবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে। আগে এই আয়োজন হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এবার মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জোটসঙ্গীদের মধ্য থেকেও কয়েকজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। আমন্ত্রণপত্র না পেলে সংসদ ভবনের নির্ধারিত ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে তা সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে সচিবালয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হতে যাচ্ছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পর এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সরকার।
ইতিমধ্যে তারেক রহমান জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন সরকার জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা ও অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাতে অগ্রাধিকার দেবে।
১৯৭৯ সালে তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং ১৯৯১ সালে তাঁর মা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন—এমন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় আসছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের সেই অধ্যায়ের ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়।
নানা জল্পনা-কল্পনা ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে আজকের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ। নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ও প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলোই সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১১ বার পড়া হয়েছে