ঢাকার ২,১৩১ ভোটকেন্দ্রে ৫৫ হাজার আইনশৃঙ্খলা সদস্য মোতায়েন
বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ভোটের দিন পুলিশ, র্যাব ও আনসারের প্রায় ৫৫ হাজার সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, মহানগরে বর্তমানে কর্মরত ৩১ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের মধ্য থেকে ২৬ হাজার ৫১৫ জনকে নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭ হাজার ৭০৩ জন আনসার সদস্য এবং পাঁচ শতাধিক র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের সদস্যরাও সহায়তা করবেন।
নিরাপত্তা তদারকিতে রাজধানীর চারটি স্থানে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করেছে ডিএমপি। এসব কন্ট্রোল রুম রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়, গুলশান কূটনৈতিক বিভাগ ও উত্তরা এলাকায় অবস্থিত। পাশাপাশি ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগে আটটি সাব-কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।
ডিএমপি জানায়, ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩০৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন ও সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। একাধিক কেন্দ্র এক ভেন্যুতে থাকলে সেখানে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। দায়িত্বে থাকা প্রতিটি পুলিশ সদস্যের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে।
পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার সদস্য ও একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় থাকবেন একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য। এ ছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্যের শরীরে ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও চিত্র নিয়ন্ত্রণকক্ষে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীতে ৫৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এসব আদালতে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন ডিএমপির আইন কর্মকর্তা (জেলা জজ পদমর্যাদার) মোহাম্মদ আতাউল হক।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন। সড়ক বা অন্যান্য এলাকায় উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবেন।
র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, রাজধানীতে র্যাব সদস্যরা নিয়মিত টহলে থাকবেন। কোথাও গোলযোগ বা সহিংসতার খবর পেলে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি বেশি থাকায় ঢাকার নির্বাচন দিয়েই পুরো দেশের নির্বাচন অনেকাংশে মূল্যায়িত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচন উপলক্ষে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ডকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকার ১৫টি সংসদীয় আসনের সব ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রায় ২৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে জোরদার নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে