বরগুনায় সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর হামলা
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনার পাথরঘাটায় বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসভবনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের খাবার শেষে গোলাম সরোয়ার হিরু বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল অতিক্রম করছিল। মিছিলের নেতাকর্মীরা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত তার বাসায় পৌঁছে দেন। হামলার পর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত গোলাম সরোয়ার হিরু বলেন, 'আমি বাজারে যাওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত পেয়েছি। নিরাপত্তার কারণে বাসায় চিকিৎসক এনে চিকিৎসা নিচ্ছি।'
পাথরঘাটা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সজিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, যার দায় অন্য দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পাথরঘাটা কে.এম. মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় দলটির একাধিক নেতাকর্মী গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গোলাম সরোয়ার হিরু ১৯৯৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দুইবার পাথরঘাটা কালমেঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার স্ত্রী আফরোজা হেপীও দুইবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলেন। তার চাচাত ভাই গোলাম সরোয়ার টুলু সাবেক সংসদ সদস্য এবং পরিবারের আরও একজন সদস্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৬৮ বার পড়া হয়েছে