কোনো জালিমের সাহস হবে না নারীর দিকে তাকানোর: ডা. শফিকুর
বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জনসভায় তিনি বলেন, “কোনো পরিস্থিতি হলেই যাঁরা মুসলমান নন, তাঁরা ভয়ের মধ্যে থাকবে কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। এই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সকলের, সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এই বাংলাদেশে যারা মাইনরিটির অধিকার নিয়ে হইচই করতেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার তাঁদের পাশে কি করেছে, তা আমরা দেখেছি। তাঁরা কি আমাদের ভাই-বোন না? তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাদের বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব। সবাইকে নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কোনো সদস্যের দিকে চোখ তুলে তাকানোর। যারা নারীদের হুমকি-ধামকি বা শারীরিক ক্ষতি করতে চায়, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের প্রতি সহিংসতার সময় যেভাবে যুবকরা গর্জে উঠেছিল, আবারও তা ঘটবে।”
শফিকুর রহমান বলেছেন, “শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়, বংশ পরম্পরায় নেতা নয়। বরং যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালায়, তার ছেলের মেধা বিকশিত করে আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে। এইভাবে জমিদারি প্রথার রাজনীতি ভেঙে যাবে।”
সরকার গঠনের পর চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রতি শাসনহীনতা দেয়া হবে না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না, কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আপসরফা হবে না। মামলাবাজি আমাদের কাসলত নয়; যারা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ৫৪ বছরে ক্ষমতায় থাকা নেতৃত্ব নিজেদের পকেট পুরেছে, ব্যাংক ও বীমা লুট করেছে এবং মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি করেছে। “দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারেনি, বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরের মুখে হাত ঢুকিয়ে টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।”
উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নওগাঁ জেলায় দেশের মোট উৎপাদনের এক দশমাংশ ধান উৎপন্ন হয়, কিন্তু জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায় না। নওগাঁ শহরের প্রধান সড়কটি চারলেন করা হবে। কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার ও ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্প বিকশিত করা হবে।”
জনসভায় নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।
১৬৫ বার পড়া হয়েছে