আশুলিয়ায় জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ড: সাবেক এমপিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার আশুলিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
একইসঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয় এবং তা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আশুলিয়ায় সহিংস ঘটনায় কয়েকজনকে হত্যা এবং মরদেহ ধ্বংসের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় মোট সাতজন নিহত হন।
রায় ঘোষণার সময় ১৬ আসামির মধ্যে আটজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
অন্যদিকে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক পুলিশ ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। টানা ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। প্রথম সাক্ষ্য দেন নিহতদের স্বজনরা। পরে আসামিপক্ষ সাফাই সাক্ষ্য প্রদান ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি তৃতীয় রায়। গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ আদালতে জমা দেয় প্রসিকিউশন।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
১৫৩ বার পড়া হয়েছে