সর্বশেষ

সারাদেশ

চরের মানুষের প্রশ্ন একটাই—কে কথা রাখবে? মানিকগঞ্জ-১ এ জমছে ভোটের লড়াই

সাজিদুর রহমান রাসেল, মানিকগঞ্জ
সাজিদুর রহমান রাসেল, মানিকগঞ্জ

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৫:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দ্বারপ্রান্তে কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বইছে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতির হাওয়া। তবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের ভোটাররা এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রার্থীদের অতীত ভূমিকা ও বাস্তব কাজের হিসাব মিলিয়েই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনটি ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত। যমুনা, ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদী দ্বারা বেষ্টিত এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই শতশত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা এলাকায় এলাকায় ঘুরে নদী শাসন ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোটাররা এবার এসব প্রতিশ্রুতিকে আর সহজে বিশ্বাস করতে রাজি নন।

চরাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলছে। অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। ঘিওরের তরা এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী শাসন প্রকল্পের আওতায় বসানো সিসি ব্লক ইতোমধ্যেই ধসে পড়ছে। দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চর এলাকার বাসিন্দা হনুফা বেগম বলেন, “অনেক নির্বাচন দেখেছি। প্রতি পাঁচ বছর পরপর প্রার্থীরা এসে নদীভাঙন রোধের কথা বলে, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তারাই আবার বালু কাটে। এবার আর শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস করবো না। অতীতের কাজ দেখেই ভোট দেবো।”

শিবালয়ের জাফরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সোহেল হোসেন জানান, সরকারিভাবে নির্দিষ্ট স্থানে বালু উত্তোলনের ইজারা থাকলেও বাস্তবে যত্রতত্র বালু কাটা হচ্ছে। এতে নদীর পাড় রক্ষার বাঁধ ও ব্লক ভেঙে জনবসতি ধ্বংস হচ্ছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন এলেই পুরনো প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। এবার আমরা এমন প্রার্থী চাই, যে সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য কাজ করবে।”

ঘিওরের বালিয়াখোড়া এলাকার রাজ্জাক শেখ বলেন, বিভিন্ন শাসনামলে ফসলি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে বিল তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারেনি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবার সেই পুরনো চিত্র ফিরে আসছে, যা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হক তোজা বলেন, “আমি নিজে চরাঞ্চলের সন্তান। নির্বাচিত হলে তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত করা এবং চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমরা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। জনগণের ভোটে বিজয়ী হলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, বিগত সরকারের আমলে চরাঞ্চলে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কেন্দ্রে পরিণত করতে কাজ করবেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন কচি বলেন, নদীভাঙনের মূল কারণ অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব। সচেতন ও সংগঠিত জনগণই গণতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষার প্রধান শক্তি।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।

এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের মতে, বিএনপির এস এ জিন্নাহ কবির, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হক তোজার মধ্যে মূলত ভোটের লড়াই হবে।

২২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন