৬০ বছর পর পীরগঞ্জে খনিতে অনুসন্ধান, মহামূল্যবান খনিজের সম্ভাবনা
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক অপেক্ষার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় দেশের প্রথম সম্ভাব্য লোহার খনিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর এলাকায় কূপ খননের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, লোহার পাশাপাশি এখানে তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি স্বর্ণেরও উপস্থিতি থাকতে পারে।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রথমবারের মতো পীরগঞ্জের শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের ভেলামারী এলাকায় লোহার খনির প্রাথমিক সন্ধান পায়। সে সময় চারটি অনুসন্ধান কূপ খনন করে স্থানগুলো কংক্রিট দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যার কিছু অংশ এখনও দৃশ্যমান রয়েছে। পরে স্যাটেলাইট ছবি ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুল পরিমাণ লোহাসহ অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা নিশ্চিত করেন।
তবে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। স্বাধীনতার পরও কয়েক দফা আলোচনা হলেও বাস্তবে খনন কার্যক্রম শুরু হয়নি।
অবশেষে দীর্ঘ ৬০ বছর পর ‘ভূতাত্ত্বিক খনন কূপ জিডিএইচ-৭৯/২৫’-এ পুনরায় অনুসন্ধান শুরু হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'উত্তরাঞ্চলের মানুষ উদার ও পরিশ্রমী। সৃষ্টিকর্তা এই অঞ্চলের মাটির নিচে বিপুল খনিজ সম্পদ দিয়েছেন। এই সম্পদ উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। এটি জাতির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।'
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, '২০০০ সালে জিডিএইচ-৫৪ নামে একটি কূপ খনন করে ভূগর্ভের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। ২০২৩ সালে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকায় আরেকটি কূপ খনন করে কিছু খনিজ উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চলতি বছর প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, যদি পর্যাপ্ত খনিজ মজুত নিশ্চিত হয় এবং তা উত্তোলন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রমাণিত হয়, তবে সরকারকে বাণিজ্যিকভাবে খনি পরিচালনার সুপারিশ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এলাকাটির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ‘বেজমেন্ট হাই’ হওয়ায় এখানে লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এবং স্বর্ণের মতো ধাতব খনিজ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খনন এলাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নিয়ে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. পপি খাতুন এবং শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, 'এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন ও এলাকাবাসী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।'
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান কার্যক্রম সফল হলে দেশের খনিজ সম্পদ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৪০ বার পড়া হয়েছে