সাতক্ষীরার ৬০৯ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯ ঝুঁকিপূর্ণ, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা
শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নিছিদ্র প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি জেলার সব ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন অফিস।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, চারটি আসনের মোট ৬০৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৩ হাজার ৪১০টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৮১টি স্থায়ী এবং ১২৯টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১৭৯টি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং ৪৩০টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আসনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে ১৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে, যেখানে ৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৮ জন, মহিলা ভোটার ৯ লাখ ১৪ হাজার ৯১৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।
আসনভিত্তিক কেন্দ্রের বিস্তারিত চিত্রে জানা যায়-
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে দুটি উপজেলায় ১৬৮টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১১৮টি সাধারণ কেন্দ্র।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে দুটি উপজেলায় মোট ১৮০টি কেন্দ্র; এর মধ্যে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ১২০টি সাধারণ।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে দুটি উপজেলায় ১৬৫টি কেন্দ্র; ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ১২৫টি সাধারণ।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে একটি উপজেলায় ৯৬টি কেন্দ্র রয়েছে; এর মধ্যে ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৭টি সাধারণ কেন্দ্র।
সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, জেলার সবকটি ভোটকেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে।
এদিকে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণে শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকি নয়, দূরত্ব এবং কেন্দ্রের ভবনের অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যেসব ভবনের অবস্থা ভালো নয়, সেগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার চারটি আসনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে