সর্বশেষ

জাতীয়প্রচার শুরুর প্রথম আট দিনেই ৪২ সহিংসতা, উদ্বেগে ভোটের মাঠ
১৫ বছরে শুধু বগুড়া নয়, পুরো বাংলাদেশই বঞ্চিত হয়েছে: তারেক রহমান
টেংরাটিলা বিস্ফোরণ মামলা: ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ
সারাদেশশেরপুরে সংঘর্ষ: রাতভর উত্তেজনা, থমথমে দুই উপজেলা, ইউএনও এবং ওসি প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিকইরানে শাসন পরিবর্তনে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে’ হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক
খেলাসাকিবকে পাকিস্তান সিরিজে খেলাতে চায় বিসিবি
রাজনীতি

প্রচার শুরুর প্রথম আট দিনেই ৪২ সহিংসতা, উদ্বেগে ভোটের মাঠ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক মাঠ। প্রার্থীদের প্রচারণা শুরুর পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। পাল্টাপাল্টি হামলা, সভা-সমাবেশে উত্তেজনা এবং প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২২ থেকে ২৯ জানুয়ারি—এই আট দিনে সারাদেশে অন্তত ৪২টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৩৫৩ জন আহত হয়েছেন। আর চলতি বছরের ১ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৫টি সহিংস ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ১০ জনের, আহত হয়েছেন ৫৫৫ জন।

সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনা ঘটে গত বুধবার শেরপুরে। সেখানে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন।

নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হবে। তবে প্রচারণার শুরুতেই সংঘর্ষের এমন প্রবণতা নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে কি না—সে প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, “নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দু-চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুরো নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।”

তবে মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের চোখে দেখছেন। আসকের মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, “গত আট দিনে চারজনের মৃত্যু এবং সাড়ে তিনশর বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে—নির্বাচনী পরিবেশ এখনও নিরাপদ ও সহনশীল হয়ে ওঠেনি।” তিনি আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন, যিনি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি দুঃখজনক বাস্তবতা।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তপশিল ঘোষণার পর ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ২০০টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রার্থীর ওপর হামলা, সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হুমকি, প্রচারণায় বাধা, অগ্নিসংযোগ ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।

আসকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিক রূপ নিয়েছে, যা ২০২৫ সালে আরও ভয়াবহ হয়েছে। শুধু গত বছরেই দেশে অন্তত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন, আহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার ৭৪৪ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া যদি সহিংসতায় রূপ নেয়, তবে তা শুধু নির্বাচন নয়—পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন