ইরানমুখী আরও মার্কিন নৌবহর, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জল্পনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বিমানবাহী রণতরিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সামরিক মহড়ার প্রস্তুতিও চলছে।
গত মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘আরও একটি পূর্ণসজ্জিত নৌবহর বর্তমানে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ইরান আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে এলে উত্তেজনা কমতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
তবে ওয়াশিংটনের এই কড়া বার্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক হুমকি দিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনায় বসতে চায়, তবে হুমকি ও অযৌক্তিক শর্ত আরোপ বন্ধ করতে হবে।
এদিকে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীন এয়ারফোর্সেস সেন্ট্রাল মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক দিনের প্রস্তুতিমূলক সামরিক মহড়া পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। এই মহড়ার লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সক্ষমতা প্রদর্শন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনে দ্রুত হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া।
তবে মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি, স্থান কিংবা ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবেই এই মহড়ার আয়োজন।
এর আগে গত সোমবার সেন্টকম জানায়, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান বহনকারী এই বহরে রয়েছে একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার, যা আকাশ ও সমুদ্রপথে যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ। যুবরাজ বলেন, সংলাপের মাধ্যমেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
সৌদি আরবের এই অবস্থানের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের ঘোষণা দেয়। তারাও স্পষ্ট জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা কিংবা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও রয়েছেন। সংগঠনগুলোর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি দেশটিতে সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, দেশটির অস্থিরতার পেছনে বিদেশে অবস্থানরত বিরোধী গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজরা’ দায়ী।
১০৬ বার পড়া হয়েছে