সর্বশেষ

জাতীয়টাইম ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার: কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন তারেক রহমান
১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে আজ
সারাদেশচট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু
শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার বিতরণ মঞ্চে সংঘর্ষ, জামায়াত নেতা নিহত
আন্তর্জাতিকইরানমুখী আরও মার্কিন নৌবহর, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
খেলাঅনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা জয়ের খোঁজে ব্যর্থ বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের কাছে বড় হার
ইয়ামালের দুর্দান্ত গোল, আবার শীর্ষে বার্সা
রাজনীতি

টাইম ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার

কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, আজ একটি দল নিষিদ্ধ হলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দল—এমনকি তাঁর নিজের দলও—নিষিদ্ধ হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর অনলাইন সংস্করণে বুধবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় দেশজুড়ে প্রায় ১২ হাজার মাইল খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতি বছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানো এবং রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখার প্রশ্নে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার নীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। তবে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে তিনি আপসহীন অবস্থান নেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টাও থাকবে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বোয়িং উড়োজাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, তাঁর পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেও জনগণের সমর্থন পাওয়া সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

টাইম–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকায় ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় তিনি তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে হারান। শোকের মধ্যেই বর্তমানে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে তাঁর দল এগিয়ে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়নের ফলে দেশ কঠিন সময় পার করছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগ এবং ২০০৮ সালের একটি মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এসব অভিযোগ কখনোই প্রমাণিত হয়নি। তিনি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব রয়েছে এবং মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করলেও নিজেকে আগের তুলনায় বেশি সহনশীল ও নমনীয় বলে দাবি করেন তিনি। নিজের ও তাঁর মাকে নিয়ে প্রকাশিত ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাও জানান।

নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী বিএনপির জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন প্রায় ১৯ শতাংশ, যার একটি অংশ তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রচারের মাধ্যমে বাড়ছে বলে মনে করেন তারেক রহমান।

শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের প্রত্যাশার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। স্পাইডারম্যান সিনেমার বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “ক্ষমতার সঙ্গে আসে বড় দায়িত্ব”—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি রাজনীতি করতে চান।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন