দাফনের ৬ মাস পর লাশ উত্তোলন, মা-বোনসহ ৫ স্বজনের নামে মামলা, তদন্তে পিবিআই
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দাফনের প্রায় ছয় মাস পর সোহেল শেখ (৪৮) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
হত্যার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া শেখপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সোহেল শেখ ওই এলাকার মৃত শাহাদত শেখের ছেলে।
আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলনকালে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কুমারখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, কুষ্টিয়া পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক (নিঃ) মো. কামাল হোসেন, কয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য শহিদুল ইসলাম, কবরস্থান কমিটির সভাপতি মোজাহারুল হক মিলন, নিহতের স্বজন এবং কয়েক শত উৎসুক জনতা।
মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে সোহানুর রহমান অভিযোগ করেন, চার শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার জন্য তার দাদী নুরজাহান, ফুফু জরিনা খাতুন, ফুফা মো. আজাহার এবং দুই ফুফাতো ভাই জীবন ও শিপন যোগসাজশে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করে তার বাবাকে হত্যা করেন। জমিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা। হত্যার পর তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, সোহেল শেখ দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজড, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। তার ছেলে সোহানুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্না ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন এবং সোহেলের খোঁজখবর নিতেন না। মৃত্যুর আগে তিনি বাবার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সামান্য জমি তার মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই হত্যার অভিযোগ এনে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সোহেল শেখ স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। ২০২৩ সালে হঠাৎ স্ট্রোক করে তিনি প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। ঢাকায় প্রায় দুই মাস চিকিৎসার পর স্ত্রী ও ছেলে তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর অবহেলা ও অযত্নে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ৬ জুন সকালে তার মৃত্যু হয়। ওই দিনই স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে কালোয়া শেখপাড়া কবরস্থানে দাফন করেন।
এ ঘটনায় গত ১৬ জুলাই শারীরিক নির্যাতন ও বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগে হত্যার অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী আমলী আদালতে মামলা করেন সোহানুর রহমান। মামলায় নিহতের মা ও বোনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআই কুষ্টিয়ার পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন।
তদন্তের স্বার্থে গত ২৭ আগস্ট মরদেহ উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে ৭ ডিসেম্বর আদালত মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন।
মামলার বাদী সোহানুর রহমান বলেন, বাবা অসুস্থ হলে তাকে গ্রামে রেখে চিকিৎসা করছিলাম। নিয়মিত বিকাশে টাকা পাঠাতাম। কিন্তু জমির লোভে আমার দাদি, ফুফু ও ফুফারা যোগসাজশে বাবাকে হত্যা করেছে। সঠিক বিচারের আশায় মামলা করেছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফুফা মো. আজাহার বলেন, সোহেল দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল। স্ত্রী-সন্তান তার খোঁজ নিত না। সে কারণেই সে মৃত্যুর আগে জমি মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। জমির লোভে সোহানুর মিথ্যা মামলা করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাভিদ সারওয়ার বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের পর তা মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে