সর্বশেষ

জাতীয়একাত্তরের স্বাধীনতা রক্ষায় চব্বিশের যুদ্ধ, এরাও 'মুক্তিযোদ্ধা': তারেক রহমান
আজ শেষ দিনের মতো মনোনয়ন আপিল শুনানি, প্রতীক বরাদ্দের প্রস্তুতি ইসির
গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬: স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: একদিনে ২১৬৭ মামলা
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন: শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনের আহ্বান উপদেষ্টার
সারাদেশকুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
সাভার কমিউনিটি সেন্টার থেকে আবারও দুই পোড়া মরদেহ উদ্ধার
সলঙ্গায় বিদ্যুৎ মেরামতের সময় খুঁটি থেকে পড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মৃত্যু
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এনায়েতপুরীর (রঃ) ১১১তম ওরশ সম্পন্ন
কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ, ৬ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
নোয়াখালীতে ছয় মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা, বাজারে মিষ্টি বিতরণ
আন্তর্জাতিকইসরায়েলে বিক্ষোভ: শেষ জিম্মি রন গিভিলির দেহ ফেরত আনার দাবি
ইউরোপের ৮ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঘোষণা
খেলাবাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ ২০২৬ টিকিট আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের শুরু বাংলাদেশ দলের, যুক্তরাষ্ট্র হারল ২১ রানে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পরিবর্তন হবে না, শ্রীলঙ্কায় খেলবে তারা
জাতীয়

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন: শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সহনশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ও সহনশীলতার অভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকট উত্তরণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, কারণ তাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের প্রশাসক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও নীতি নির্ধারক তৈরি হবে।

ডাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ কনভেনশন হলে রোববার (১৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে মোট ৫,৯০৩ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫,২২৪ জন স্নাতক এবং ৬৭৯ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে বিশ্বের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। তবে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অন্য নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তরুণদের শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার গণভোটে হ্যাঁ-না ভোটের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, মাছ, ডিম, দুধ ও মাংস মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস হলেও এখনও সবাই তা নিয়মিত পাচ্ছে না। ঘাটতি পূরণের নামে মাংস আমদানি দেশের প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে; তাই সরকার দেশীয় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ ও নদী-নালা, খাল-বিল ভরাটের কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের অতিরিক্ত ও অবৈধ আহরণের কারণে ২০১৮ সালের তুলনায় সমুদ্রে মাছের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারেরও আহ্বান জানান। ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ নানা অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের অপেক্ষা না করে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করতে হবে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। ডিগ্রি প্রার্থীদের উপস্থাপন করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নূরুর রহমান খান, ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম এবং কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। কনভোকেশন মার্শাল ছিলেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক আনিকা হাবিব।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের প্রত্যাশা অনেক। শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো ভালো ও মন্দের পার্থক্য দক্ষতার সঙ্গে অনুধাবন করা। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহারের অনুপস্থিতিতে তাঁর বক্তব্য পড়ে শোনান ট্রাস্টিজ সদস্য ডা. সাগুপ্তা মাহমুদ। তিনি বলেন, সমাবর্তন শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং জীবনের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরণের মুহূর্ত। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি দায়িত্বের সূচনা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ শিক্ষার্থীরা কেবল একটি ডিগ্রি নয়, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার দায়িত্বও গ্রহণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গ্রাজুয়েটরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এর মর্যাদা সমুন্নত রাখবে।

সমাবর্তনে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যগণ, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

স্নাতক পর্যায়ে চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল লাভ করেন খলিলুর রহমান। কাজী আজহার আলী গোল্ড মেডেল পান নুসরাত কবির বৃষ্টি। ভাইস-চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল পান শায়েকা লাওলাক, তাজিবা আফরিন ও তানিয়া আক্তার। ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছেন মৌমিতা ভৌমিক সুপ্তি, মোসা. জান্নাতি খাতুন, মো. তারিকুল ইসলাম, প্রিনন মাহদী, মো. মাহমুদ চৌধুরী, দেবারতি ভট্টাচার্য, রাজিয়া খাতুন তুন্না, মরহুম মিতু ফকির, লামিয়া চৌধুরী ও উম্মে হাবিবা শারমিন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পান মো. শাহিনুজ্জামান, জান্নাতুল ইসলাম ও নিশাত কাদের।

সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করে।

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন