খালেদা জিয়ার চিকিৎসা: তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি ডা. এফ এম সিদ্দিকীর
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা হয়েছে দাবি করে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসক দলের সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাজনিত এই অবহেলা ছিল ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ডায়াবেটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার প্রতি অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যা মেডিক্যাল বোর্ডের নথিপত্রেই প্রতিফলিত। তিনি এ বিষয়ে আইনগতভাবে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।
তদন্তের জন্য তিনি তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। এগুলো হলো—
১) সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁরা চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেছেন,
২) চিকিৎসাকালীন সময় কোন কোন চিকিৎসক সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাঁদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল কি না,
৩) চিকিৎসার সময় খালেদা জিয়া তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানালেও কেন তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং এতে কারা বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।
ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে।
তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–জনিত জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ এর আগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাড়পত্রে আর্থ্রাইটিসের জন্য মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ওষুধ নিয়মিত সেবনের নির্দেশ ছিল এবং ভর্তি থাকা অবস্থায় সেটি তাঁকে খাওয়ানো হয়।
ডা. সিদ্দিকীর ভাষ্য অনুযায়ী, মেথোট্রেক্সেট গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা ছিল অত্যাবশ্যক। কিন্তু লিভার ফাংশন টেস্টে অসংগতিপূর্ণ ফল পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা ওষুধটি বন্ধ করেননি বা প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসনোগ্রাম করাননি, যা মারাত্মক অবহেলার শামিল।
তিনি বলেন, এই ওষুধ খালেদা জিয়ার ফ্যাটি লিভার রোগকে দ্রুত সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। সে অর্থে এটি তাঁর লিভারের জন্য ধীর বিষের মতো কাজ করেছে।
বক্তব্যের শেষাংশে ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, দেশের মানুষের মনে আজও গভীর বেদনা ও আক্ষেপ রয়ে গেছে—গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করা এই নেত্রী যদি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতেন এবং জনগণের অবাধ ভোটাধিকার প্রয়োগের দৃশ্য দেখতে পেতেন।
১২৬ বার পড়া হয়েছে