সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘ সুস্থ হচ্ছে, শিগগিরই অবমুক্ত হবে
বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে পড়া আহত বাঘটি খুলনা রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
বাঘটি বর্তমানে পানি ও খাবার গ্রহণ করছে এবং স্বাভাবিক আচরণের দিকে ধীরে ধীরে ফিরে আসছে, যা শারীরিক অবস্থার উন্নতি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে বেশ কিছু ক্ষত থাকলেও হাড় ভাঙেনি, যা আশার কথা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষত শুকানোর পর খুব শীঘ্রই বাঘটি সুন্দরবনে অবমুক্ত করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ এক প্রেস বার্তায় এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে উদ্ধার করা আহত বাঘটি খুলনা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় বাঘটি অত্যন্ত দুর্বল ছিল, তবে চিকিৎসার পর পানি ও খাদ্য গ্রহণ শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে বন্য ক্ষীপ্রতা ফিরে আসছে।
বাঘটির চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন বন বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাদ জুলকার নাইন। বর্তমানে বাঘটি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত না হলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ড. হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মঙ্গলবার খুলনায় পৌঁছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেন। বুধবার সকালে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে বাঘটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ দেন। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘের সামনের বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হাড় ভাঙেনি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাঘটি সুস্থ হয়ে বনে ফিরে যেতে পারবে। তবে বর্তমানে ক্ষত শুকানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাই বাঘটির কাছে মানুষের সংস্পর্শ এড়ানো জরুরি। কারণ এটি সম্পূর্ণ বন্য প্রাণী, যা আগে কখনও মানুষের সংস্পর্শে আসেনি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ড. গোলাম হায়দার, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. গোলাম আযম চৌধুরী এবং সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হসপিটাল ঢাকার অ্যাডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার ডা. নাজমুল হুদা।
উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি বিকেলে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনির শরকির খাল সংলগ্ন স্থানে হরিণের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে পড়ার খবর পান। এরপর বাঘটি উদ্ধারের জন্য ঢাকায় জানানো হয়। ঢাকার বিশেষজ্ঞ টিম ৪ জানুয়ারি দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে অচেতন করে ফাঁদ থেকে মুক্ত করে। রাতেই তাকে খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে আসা হয় এবং চিকিৎসা শুরু করা হয়।
১৯৮ বার পড়া হয়েছে