নোয়াখালীতে ডিপিএইচই’র সরকারি মালামাল বিক্রিতে ভয়াবহ অনিয়ম
বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) প্রায় ৫ কোটি টাকার সরকারি পানির পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগকে ঘিরে জেলায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে সরেজমিন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) দিনভর নোয়াখালীতে এসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী ও তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী আজগর।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ জিআই ও পিভিসি পাইপকে ‘অব্যবহৃত’ দেখিয়ে গোপনে নিলামে তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রকাশ্য নোটিশ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান ও মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গোপন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব মালামাল বিক্রি করা হয়।
ঠিকাদারদের দাবি, বাজারমূল্য ও প্রকল্পমূল্য বিবেচনায় এসব পাইপের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা হলেও মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রির দেখানো হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আজগর বলেন, “বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত আরও সহজ হতো। তবে সব ধরনের কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এসব মালামাল নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দেখিয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেলের নেতৃত্বে বিএনপির সমর্থিত ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যান। তবে তারা সেখানে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত পান। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদাররা আসার আগেই সংশ্লিষ্টরা অফিস ত্যাগ করেন।
ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এসব পাইপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অথচ এই তথ্য গোপন রেখে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
৩৪৯ বার পড়া হয়েছে