সর্বশেষ

জাতীয়জুলাইয়ে দাফনকৃত বেওয়ারিশ লাশের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর
ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা
জকসু নির্বাচন: ভিপি, জিএস ও এজিএসে শিবির সমর্থিত প্যানেল এগিয়ে
নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়ানোরা নজরদারিতে আছে: প্রেস সচিব
বাজার বাস্তবতায় আবাসন ঋণের সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক
১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হচ্ছে
ঢাকায় সকালে কুয়াশা, দুপুরে বাড়তে পারে উষ্ণতা : আবহাওয়া অফিস
সারাদেশবেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নেই, তিনি চিরঅমর : নাটোরে দুলু
কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগে ঘুষ: পল্লী বিদ্যুতের ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
শেরপুরে বন্য হাতির আঘাতে কৃষকের মৃত্যু
ঝিনাইদহে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরানো হয়েছে ২০টির বেশি দোকান
দৌলতপুরে মোবাইল দোকানে চুরি, ৭৫টি ফোন লুট
মাগুরায় গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রবাসী নিহত
ধামরাইয়ে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
কুষ্টিয়ায় ভোটার সচেতনতায় ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
আন্তর্জাতিকফিলিপাইনে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি
মাদুরো ইস্যুতে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের
তীব্র তুষারপাতে ইউরোপে বিপর্যয়, প্রাণ গেল ছয়জনের
খেলা'ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আইসিসি কোনো বাধ্যবাধকতা দেয়নি'
ফিচার

মুস্তাফিজ থেকে বিশ্বকাপ: ক্রিকেটকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানাল ভারত

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–কে ঘিরে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নতুন এক উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারত–শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় এই আসরে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের মাটিতে রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঢাকা জোরালো আপত্তি তুলে বলছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সে দেশে খেলতে যাওয়া নিরাপত্তা ও মর্যাদার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।

ভারতীয় রাজনৈতিক–মিডিয়া মহল উল্টো বাংলাদেশকেই দোষারোপ করে গুজব ছড়াচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থাহীনতাকে আরও ঘনীভূত করছে।

ভিসা–সংকটে দায় ভারতের একতরফা পদক্ষেপে
বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে হামলার পর কিছু সেবা সাময়িকভাবে সীমিত করা হলেও, ভারতের পক্ষ থেকে ভিসা–নীতি সংকুচিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় তারও আগে, জুলাই ২০২৪–এর পর থেকে, যখন কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধাবস্থা, কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ বা নিরাপত্তা–হুমকির স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা পাওয়া ক্রমশ কঠিন করে তোলা হয়। এই সময় থেকেই চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য ভারতমুখী স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে শুরু করে।
আজকের সংকটকে কেবল “দ্বিপাক্ষিক ভুল বোঝাবুঝি” হিসেবে ব্যাখ্যা করলে ভারতের প্রাথমিক পদক্ষেপ ও দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়।

নিরাপত্তা–আশঙ্কা: এক জন থেকে পুরো কনটিনজেন্ট
বাংলাদেশের যুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক সময়ে একজন শীর্ষ বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে ভারতীয় বোর্ডের আচরণ, রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাকে হঠাৎ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া, এবং এর পক্ষে ভারতের কিছু গণমাধ্যমের স্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িক ভাষায় প্রচার—সব মিলিয়ে ঢাকার কাছে পরিষ্কার সংকেত গেছে যে, সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে খেলাধুলার চেয়ে বেশি কাজ করছে রাজনীতি ও হিন্দুত্ববাদী চাপ।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের প্রশ্ন খুব সোজা: যে দেশে একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে নিরাপত্তা–রাজনীতি হয়, সেখানে পুরো জাতীয় দল, কর্মকর্তা, সাংবাদিক আর সম্ভাব্য সমর্থকদের নিরাপত্তা কে নিশ্চয়তা দেবে? দল সেখানে গেলে স্টেডিয়ামের বাইরে, হোটেল, রাস্তাঘাট, এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও যে বিদ্বেষের টার্গেটে পরিণত হতে পারে—এটা নিছক আশঙ্কা নয়, বরং সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা যৌক্তিক উদ্বেগ। বাংলাদেশ তাই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অধিকার রেখেই ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তুলেছে।

ভারতের গুজব–প্রচারণা: বাংলাদেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা
ভারতের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ কিছু গণমাধ্যম ও সংগঠিত প্রোপাগান্ডা–নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে রাজনৈতিক রূপান্তর ও কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে “হিন্দু গণহত্যা”, “বাংলাদেশকে নতুন পাকিস্তান” ইত্যাদি ভাষায় তুলে ধরে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ফুটেজ, ভিন্ন দেশের ভিডিও ও যাচাইহীন গল্প ব্যবহার করে বাংলাদেশকে “এককভাবে ইসলামিস্ট ও হিন্দু–বিদ্বেষী রাষ্ট্র” হিসেবে আঁকার চেষ্টা চলছে।
এই বয়ানের লক্ষ্য একাধিক:
ভারতের ভেতরে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান হামলা, বৈষম্য ও রাষ্ট্রপৃষ্ঠপোষক হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সমালোচনা থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়া।
নিজের দেশের হিন্দু ভোটব্যাংককে দেখানো যে, সীমান্তের ওপারে হিন্দুরা সর্বনাশের মধ্যে আছে—তাই কঠোর নীতি, আইন ও মুসলিমবিরোধী রাজনীতি ন্যায্য।
বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ সন্দেহ, বিভাজন ও অস্থিরতা বাড়িয়ে সেখানে “অস্থিতিশীল প্রতিবেশী” ধারণা জারি রাখা।
ফলে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভুয়া ও বাড়িয়ে বলা খবর শুধু বিদেশি দর্শকের জন্য নয়; এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি জনমতেও “আমরা সবসময় অভিযুক্ত, আমরা পৃথিবীর চোখে দোষী”—এই হীনমন্যতা ও অসন্তোষ তৈরি করার একটি হিসাবি প্রয়াসও দেখা যায়।

বাংলাদেশে সহিংসতা: রাজনৈতিক রূপান্তরের ভেতরে সীমিত, কিন্তু উদ্বেগজনক
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর হামলা, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে—যার শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগ–সমর্থক, সংখ্যালঘু, গ্রামীণ দরিদ্র, বিভিন্ন পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাও আছে, কিন্তু সংখ্যাগত ও ভৌগোলিক তুলনা করলে তা ‘প্রায় দেড় কোটি হিন্দু জনগোষ্ঠীর জন্য দেশকে বসবাসের অযোগ্য করে দেওয়ার মতো সর্বব্যাপী সন্ত্রাস’—এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এটা সত্য যে সরকার প্রথম দিকে কিছু ঘটনাকে রাজনৈতিক সহিংসতা বলে ছোট করে দেখাতে চেয়েছে, আবার এটা–ও সত্য যে বেআইনি হামলা রোধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা এবং কিছু বাস্তব পদক্ষেপও এসেছে। বাস্তবতা তাই দ্বিমুখী: উদ্বেগজনক সহিংসতা আছে, কিন্তু ভারতের চিত্রিত “সর্বগ্রাসী ধর্মীয় যুদ্ধ” নেই। এই সমগ্র চিত্রকে উপেক্ষা করে শুধু ধর্মীয় কোণ থেকে বাংলাদেশকে অভিযুক্ত করা স্পষ্টত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ক্রিকেট ময়দানেই কেন ভাঙন?
ক্রিকেট দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনীতি ও জনমত–গঠনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। ভারত এখন তার বিশাল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব ব্যবহার করে ক্রিকেটেও রাজনৈতিক বার্তা পাঠাচ্ছে—কখনো খেলোয়াড় বাদ দিয়ে, কখনো নিরাপত্তা–অজুহাতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রেখে, আবার কখনো আইসিসি–কে চাপের মুখে এনে নিজেদের পক্ষে মহড়া দেখিয়ে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভেন্যু প্রসঙ্গকে ঘিরে যে ধরনের প্রোপাগান্ডা চলছে, তা এই বৃহত্তর নীতিরই অংশ—এতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা–উদ্বেগকে “অজুহাত” আর সংখ্যালঘু–সহিংসতাকে “অন্যন্যায় গোপন করার কৌশল” বলে দেখানোর চেষ্টা তীব্র হয়েছে।
ফলে টুর্নামেন্টের খেলা এখন কেবল ২২ গজের লড়াই নয়; এটি রাষ্ট্র–সম্মান, তথ্য–সত্য, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যেরও লড়াই। সেখানে বাংলাদেশের দাবি স্পষ্ট—কোনো রাষ্ট্রেরই অধিকার নেই ভুয়া বা অতিরঞ্জিত বয়ান বানিয়ে অন্য দেশের নিরাপত্তা–উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করার; আর বাংলাদেশেরও অধিকার আছে, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপোষ না করে বিকল্প ভেন্যু চাইতে।

একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক হিসেবে এই পুরো সংকটকে দেখা জরুরি ঠান্ডা মাথায়, কিন্তু নির্ভীকভাবে। বাস্তব সহিংসতা ও সংখ্যালঘু–উদ্বেগকে অস্বীকার না করেই স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন—
ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক প্রকল্প বাংলাদেশের ভেতরের প্রতিটি টানাপোড়েনকে কাজে লাগিয়ে একতরফা “অ্যান্টি–হিন্দু বাংলাদেশ” গল্প বানাচ্ছে।
ভিসা–সংকট, খেলোয়াড় অপমান, গুজব–প্রচার—এসবের দায় ভারসাম্যপূর্ণভাবে “দুই দেশ”–এর ঘাড়ে না চাপিয়ে সৎভাবে স্বীকার করতে হবে, সূচনা ভারতীয় নীতিতেই।
ক্রিকেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের শর্ত ঠিক করার আগে বাংলাদেশের নিরাপত্তা–অধিকার ও মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেওয়াই হওয়া উচিত আলোচনার প্রথম ধাপ।
এই প্রসঙ্গে “টেকনিক্যাল নিরপেক্ষতা”র নামে ভারতের প্রোপাগান্ডা ও একতরফা পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া কোনো দেশেরই সাংবাদিকতার দায়িত্ব নয়; বরং তথ্য, প্রেক্ষাপট ও মানুষের নিরাপত্তার পক্ষে দাঁড়ানোই প্রকৃত পেশাদার অবস্থান।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক

১৭৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফিচার নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন