কুড়িগ্রামে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত: রিটার্নিং অফিসে বিক্ষোভ
সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে স্থগিত করায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।
বিক্ষোভ চলাকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে জামায়াত কর্মীরা জেলা প্রশাসককে কুড়িগ্রামে রাখা যাবে না বলে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ জামায়াত নেতাদের অসাদাচরণ ও হুমকির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকায় তার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
সূত্র আরও জানায়, গত শুক্রবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দ্বিতীয় কার্যদিবসে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে দাখিলকৃত সাতটি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে জামায়াত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়ন স্থগিত এবং বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল খালেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাকি প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দাখিলকৃত সব মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাহবুব আলম সালেহী অভিযোগ করে বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তার দাবি, এই জেলা প্রশাসকের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের মনোনয়ন বৈধ করবেন বলে জানান।
অপরদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থিতা স্থগিত করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেকের ক্ষেত্রেও ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের সত্যতা না পাওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ আরও বলেন, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন। উচ্চ আদালত থেকে বৈধতা পেলে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে