কুড়িগ্রামে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ
রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও শীতল বাতাসের কারণে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সূর্যের দেখা না মেলায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ ও চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
রাতভর কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারণে কাঁপুনি বেড়েই চলেছে। শীতের তীব্রতায় কাজে যেতে দেরি হচ্ছে দিনমজুরদের। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের দিনমজুর খলিল (৫০) ও জয়নাল (৩৮) জানান, সকালে ঠান্ডায় হাত-পা ঠিকমতো চলে না। তবুও সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে কাজে যেতে হয়।
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরকুটি গ্রামের সরকারি জায়গায় বসবাসকারী বাছন বেওয়া (৫৫) বলেন, “এই শীতে রাইতে দুই একান খ্যাতা গাঁত দিয়া শুতি হয়, তাও খুব ঠান্ডা লাগে। এখনও কেউ কম্বল দেয় নাই।” একই এলাকার রহিম আলী বলেন, “কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কিন্তু ঠান্ডায় কাজ করলে হাত-পা জ্বালা করে, ঠিকমতো কাজ করা যায় না।”
শীতের প্রভাবে বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধিও। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে তার সন্তানের কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। অনেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া জরুরি সহায়তার জন্য ৪০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, রোববার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাই দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে