শৈলকুপায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে অবৈধ ইটভাটা, হুমকিতে পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য
বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একেবারে সন্নিকটে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ ইটভাটা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। ইট পোড়ানোর মৌসুম শুরু হওয়ায় ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের বসন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় মিজানুর রহমান মধুর মালিকানাধীন ‘এইচ.বি.আর ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে বিপুল পরিমাণ কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে কাঁচা ইট পোড়ানো হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ছে। ইট পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের অতিরিক্ত শব্দ ও ধুলাবালির কারণে এলাকাজুড়ে শব্দ ও বায়ুদূষণ বেড়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হঠাৎ করে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে শ্রেণিকক্ষের জানালা-দরজা বন্ধ করে রাখতে হয়। নিয়মিত এমন পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছে। শুধু বিদ্যালয় নয়, আশপাশের বসতবাড়ি ও সরকারি ইজারাভুক্ত মদনডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ীরাও ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইটভাটা চালু থাকলে ঘরবাড়ির উঠান, বারান্দা ও ঘরের ভেতর পর্যন্ত ধুলাবালি জমে যায়। এতে শিশু ও বয়স্কদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও জনবসতি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। পাশাপাশি কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সংশ্লিষ্ট আইন অমান্য করেই ভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ভাটা মালিক মিজানুর রহমান মধু দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সব বিষয় ‘ম্যানেজ’ করেই ভাটাটি পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ নিয়ে লেখালেখি করেও কোনো লাভ হবে না।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মুন্তাসিরুল ইসলাম জানান, জেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খুব শিগগিরই শৈলকুপা উপজেলায় অভিযান চালানো হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে পরিবেশ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
৩১৬ বার পড়া হয়েছে