সর্বশেষ

জাতীয়খালেদা জিয়ার শারীরিক সামান্য উন্নতি হলে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা
বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় দোয়া
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে : সিইসি
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় দীর্ঘ সময় প্রয়োজন: গভর্নর
বাম প্রগতিশীল ৯ দলের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ ঘােষণা
ঢাকায় নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুতি যাচাইয়ে ইসির মক ভোটিং আজ
বেইডৌ স্যাটেলাইট নেভিগেশনে যোগদানে বাংলাদেশের বাড়বে সক্ষমতা
ঢাকার বাজারে শীতের সবজি, মাছ ও মাংস : কমেনি দাম, কমেছে ক্রেতা
সারাদেশআলফাডাঙ্গায় বিএনপি'র দুইপক্ষের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি
কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীর হাতে যুবকের নির্মম হত্যাকাণ্ড
ফরিদপুরের সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫৪
ঝিনাইদহে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কমেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা
নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত
খাগড়াছড়িতে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল মিডিয়া প্রশিক্ষণ শুরু
আন্তর্জাতিকন্যাশনাল গার্ডে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা
তীব্র সৌর বিকিরণে ঝুঁকি, এয়ারবাসের হাজারো উড়োজাহাজে উড্ডয়ন স্থগিত
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ আবারও উত্তেজনা : হিজবুল্লাহ নেতার হুঁশিয়ারি
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় ১২৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৩০
খেলাবার্সার নতুন তারকা: ১২ বছর বয়সেই ছড়াচ্ছে আলো, নাইকির সঙ্গে চুক্তি!
রাজনীতি

তারেক না ফিরলে ভাঙন না পুনর্গঠনের পথে বিএনপি?

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ৫:২৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন; তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।



একই সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও একমাত্র ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, ফলে জিয়া পরিবারের এই দুঃসময়ে মা ও ছেলেকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আবেগী সঙ্কট একসাথে চূড়ায় পৌঁছেছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক শূন্যতা
খালেদা জিয়ার ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে “খুবই অত্যন্ত সংকটাপন্ন” হিসেবে বর্ণনা করছেন এবং দীর্ঘমেয়াদে সক্রিয় রাজনীতির সামর্থ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছেন। বাস্তবে তিনি অনেক আগেই রাজপথ ও সরাসরি সংগঠন পরিচালনা থেকে সরে গেছেন; জামিন-শর্ত, শারীরিক দুর্বলতা ও হাসপাতাল–বাসা–হাসপাতাল এই চক্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় তার উপস্থিতি এখন মূলত প্রতীকী, আবেগী ও বৈধতা–দাতা নেতৃত্বে পর্যবসিত হয়েছে।
খালেদা জিয়ার এই অনুপস্থিতি বিএনপির ভেতরে একটি বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিয়েছে—দলটি দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় বিকল্প বা সমান্তরাল নেতৃত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে তিনি সুস্থ হয়ে পুরোপুরি ফিরতে না পারলে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে কী ধরনের নেতৃত্ব–মডেল কার্যকর হবে, এই প্রশ্ন এখন বিএনপি–সমর্থক থেকে বিরোধী—সব মহলেই আলোচনার কেন্দ্রে।

তারেক রহমান: আইন, লন্ডন ও ফেরার জটিল হিসাব
২০০৭–পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ নানা মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, গ্রেফতার, জামিন, বিদেশে চিকিৎসা ও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী থাকা—সব মিলিয়ে তার ব্যক্তিগত আইনি প্রোফাইল খুব জটিল একটি রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি মামলায় খালাস ও হাইকোর্ট/আপিলে সুবিধাজনক আদেশ এলেও, এখনও তার বিরুদ্ধে বহুসংখ্যক মামলা চলমান বা ঝুলে আছে—কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাজা, কোথাও গ্রেফতারি পরোয়ানা, কোথাও তদন্তাধীন অভিযোগ—যা দেশে ফিরলে তার তাৎক্ষণিক আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


যুক্তরাজ্যে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়, পরে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী আবাসনের মতো স্ট্যাটাসে গেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে; এতে তিনি সেখানে বৈধভাবে অবস্থান, ব্যবসা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারছেন। তত্ত্বগতভাবে এই ধরনের স্ট্যাটাস থাকা মানেই নিজ দেশে ফেরার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই; কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে ফিরে আবার গ্রেফতার–সাজার ঝুঁকি নিলে তার “প্রসিকিউশন বনাম পার্সিকিউশন” (বিচার নাকি নিপীড়ন) প্রশ্নটি যুক্তরাজ্যের আইনি ব্যবস্থায় জটিল হয়ে ওঠতে পারে বলে অনেকে মনে করেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো সরাসরি এক লাইনের নিষেধাজ্ঞা ধরনের আইন উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান নয়।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমান দেশে ফিরলে মামলাগুলো মোকাবিলার সম্পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে—অর্থাৎ “বাধাহীন প্রত্যাবর্তন” নয়, বরং “ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হওয়া”–এর বার্তা বেশি জোরালো। এ অবস্থায়, বিশেষ করে মায়ের সংকটাপন্ন সময়েও দেশে না ফিরতে পারা বা না ফেরা—শুধু আবেগের প্রশ্ন নয়, বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক আইনি হিসাব–নিকাশের সমষ্টিগত ফল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ও জল্পনা বাড়ছে।

দলীয় অভ্যন্তরে নেতৃত্ব, কোন্দল ও মনোনয়ন–রাজনীতি
বিএনপির বর্তমান কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রজন্ম, খালেদা জিয়ার কনসলিডেশন প্রজন্ম এবং নতুন ছাত্র–যুব–ডিজিটাল প্রজন্ম—এই তিন স্তরের নেতৃত্ব এখন একসঙ্গে একটি দলকে টানছেন, কিন্তু তাদের ওপর দাঁড়ানো গ্রহণযোগ্য, কার্যকর “মধ্যম নেতৃত্ব” এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দমন–পীড়ন, মামলা, গ্রেফতার, দলীয় ভাঙন এবং অনেকে বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে অনেক জেলা–মহানগরে সংগঠন এখনো “ব্যক্তিনির্ভর”—কোনো একটা পরিবারের ঘনিষ্ঠতা বা কেন্দ্রীয় কারো কৃপা–নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন–প্রত্যাশা ঘিরে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দীর্ঘদিন দেশ–বিদেশে বিভক্ত থাকা অবস্থায় মনোনয়ন–বাণিজ্য, আঞ্চলিক গোষ্ঠী, ছাত্র–শাখা বনাম মূল দলের দ্বন্দ্ব, এবং স্থানীয় জোট–রাজনীতির প্রশ্নে নানা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। খালেদা–তারেক দুজনই যদি মাঠে না থাকেন, তবে “কে আসলে প্রার্থী বাছবেন, স্থানীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কে আরবিটার হবেন”—এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে, বিএনপিরই ভেতরে স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জোট–ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

আইনি বাধা না রাজনৈতিক হিসাব: তারেকের না ফেরার ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা বলছেন, আজকের দিনে তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে পুরোপুরি অবৈধ করে এমন কোনো একক আইনি বাধা দেখানো কঠিন; অধিকাংশ জটিলতা আসে ঝুলে থাকা মামলা, সম্ভাব্য গ্রেফতার, এবং ফেরার পর তিনি রাজনীতি করার যথেষ্ট স্বাধীনতা পাবেন কি না—এই প্রশ্ন থেকে। বিএনপি নেতৃত্বও একাধিকবার দাবি করেছে, সব “মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত” মামলা প্রত্যাহার করে তাকে দেশে ফিরতে ও রাজনীতি করতে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা চাই; সরকার অন্যদিকে বলে, আইনের শাসনের প্রশ্নে কাউকে “ইমিউনিটি” দেওয়া সম্ভব নয়, তাকে আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই ফিরতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাই দুটো ব্যাখ্যা বেশি শোনা যায়—
এক পক্ষের মতে, তারেক রহমানের না ফেরা মূলত “রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশ”: বিদেশে নিরাপদ থেকে দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দল পরিচালনা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রেখে ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখা।

অন্য পক্ষের মতে, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল বা আইনি নিশ্চয়তা ছাড়া তার ফেরায় “ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ন্যায্য বিচার” নিয়ে বাস্তব আশঙ্কা আছে; ফলে এটা কেবল কৌশলগত নয়, নিরাপত্তাজনিত হিসাবও।
কোনো পক্ষের দাবিকেই একক সত্য বলা কঠিন, তবে বাস্তবতা হলো—খালেদা জিয়ার সংকটময় সময়ে মায়ের পাশে শারীরিকভাবে না থাকতে পারাটা রাজনৈতিক প্রতীকি দিক থেকে বিএনপি ও তারেক—দু’য়ের জন্যই বড় ধরণের ইমেজ–চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সম্ভাব্য তিনটি পথ: বিএনপির সামনে রূপরেখা
বর্তমান সংকট থেকে বিএনপি কীভাবে বের হতে পারে—বিভিন্ন বিশ্লেষণে মোটামুটি তিন ধরনের সম্ভাব্য রূপরেখা উঠে আসছে।
১) দূর–নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনমুখী দল:
তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল নেতৃত্ব দেবেন, খালেদা থাকবেন প্রতীকী চেয়ারপারসন হিসেবে, আর ঢাকায় মহাসচিব–স্ট্যান্ডিং কমিটি–দলীয় নীতিনির্ধারকরা তার নির্দেশ বাস্তবায়ন করবেন। এতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঐক্য কিছুটা বজায় থাকতে পারে, কিন্তু জেলা–মহানগরে মনোনয়ন ও পদ বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ, অমান্যতা ও ভাঙনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
২) “ডুয়াল লিগেসি, লোকাল ম্যানেজার”:
জিয়া–খালেদা–তারেককে বিএনপির “ঐতিহাসিক ও প্রতীকী নেতৃত্ব”–এর জায়গায় রেখে, দৈনন্দিন রাজনীতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা কোনো এক “গ্রহণযোগ্য তৃতীয় ব্যক্তি”র (যেমন বর্তমান মহাসচিব বা অন্য কাউকে) হাতে তুলে দেওয়া—এমন মডেলের কথাও আলোচনায় আছে। এতে দল টিকে থাকলেও পরিবারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কিছুটা নরম হবে, যা জিয়া পরিবার–ঘনিষ্ঠ অংশ ও স্বাধীন নেতৃত্ব–চাওয়া অংশের মধ্যে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
৩) আন্দোলন–কেন্দ্রিক ও আংশিক অংশগ্রহণ:
আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় “পূর্ণ শক্তিতে নির্বাচন” করা কঠিন মনে হলে বিএনপি আবারও আন্দোলন–কেন্দ্রিক পথ বেছে নিয়ে আংশিক অংশগ্রহণ বা নির্বাচনী বর্জনের কৌশল নিতে পারে—যা স্বল্পমেয়াদে সমর্থকদের মধ্যে উষ্মা কমালেও, দীর্ঘমেয়াদে ভোটের রাজনীতিতে দলকে প্রান্তিক করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

সঙ্কটের মধ্যে সুযোগও লুকিয়ে
সব মিলিয়ে ছবিটা এমন—খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সঙ্কট বিএনপিকে আবেগ, নৈতিকতা ও বৈধতার এক সন্ধিক্ষণে এনে দাঁড় করিয়েছে; একই সময়ে তারেক রহমানের আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই সঙ্কট বিএনপিকে একদিকে দুর্বল ও বিভক্ত করতে পারে, অন্যদিকে বাধ্য করতে পারে—নেতৃত্ব–সংস্কার, তৃণমূল পুনর্গঠন ও নতুন প্রজন্ম–ভিত্তিক রাজনীতির দিকে যাত্রা শুরু করতে; শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেবে দলটি, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসে আইনি প্রক্রিয়া, নির্বাচন–কৌশল ও ভেতরের শক্তিগুলোর সমঝোতা—এই তিনের সমীকরণের ওপর।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন