ময়মনসিংহে শিশু হাসপাতাল নির্মাণে ধীরগতি, বঞ্চিত লাখো শিশু
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতির কারণে আটকে আছে, ফলে বৃহত্তর অঞ্চলের লাখো শিশু বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে অতিরিক্ত রোগীর চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিশুদের জন্য মানসম্মত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে একটি আধুনিক শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নগরীর বাড়েরা এলাকায় ৩ একর জমির ওপর ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা ভিত্তির ওপর দ্বিতল এই হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতা, জমি সংক্রান্ত সমস্যা এবং পরবর্তী সময়ে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।
২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও গত প্রায় ১৮ মাস নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল বলে জানা যায়। সম্প্রতি কাজ পুনরায় শুরু হলেও তা চলছে ধীরগতিতে।
এদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে শয্যা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনুমোদিত ৬০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালের করিডোর ও বারান্দায়ও চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, গরম ও মশার উপদ্রবে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগী ও অভিভাবকদের।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, সীমিত শয্যা ও সম্পদ নিয়ে এত বেশি রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতো।
অন্যদিকে, নির্মাণাধীন হাসপাতাল প্রকল্প ঘিরে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কাজ পুনরায় শুরু হলেও প্রকল্পে ব্যবহৃত উপকরণ সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের প্রকল্প বছরের পর বছর আটকে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত কাজ শেষ করে হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাইট ইঞ্জিনিয়ারের দাবি, সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকলেও এখন পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, কেননা দীর্ঘ বিলম্বের কারণে হাজারো শিশু এখনো কাঙ্ক্ষিত বিশেষায়িত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে