‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবি
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি স্থাপনা ‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে চলমান আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও গবেষকদের জন্য ভবনটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল।
এ দাবিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) সোনালী ব্যাংক পিএলসির ময়মনসিংহ অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।
সংগঠনের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘গৌরিপুর লজ’ ময়মনসিংহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। গৌরিপুরের তৎকালীন জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী কর্তৃক নির্মিত এই ভবনটি স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। ময়মনসিংহ নগরীর ‘এ’ ক্যাটাগরির ঐতিহাসিক ভবনগুলোর মধ্যে শশীলজ, আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল ও গৌরিপুর লজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসসহ ঐতিহ্যবাহী গৌরিপুর লজ ভবনটি সোনালী ব্যাংক পিএলসি ব্যবহার করছে। অতীতে ব্যাংকের কার্যক্রম ভবনটিতে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে পাশেই একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। তবে বর্তমানে মূল ঐতিহাসিক ভবনটি ব্যাংক কর্মকর্তাদের ডরমেটরি বা আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংগঠনের দাবি, আবাসিক ব্যবহারজনিত কারণে ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হচ্ছে, যা পুরাকীর্তিটির মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া কর্মকর্তাদের আবাসন থাকায় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণে পর্যটক, গবেষক এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা ভবনটি পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন না।
এ পরিস্থিতিতে গৌরিপুর লজ ভবনের ভেতরে চলমান সব ধরনের আবাসিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করে ভবনটি জনসাধারণ, গবেষক এবং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “পুরাকীর্তি স্থাপনা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে। এসব স্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, বরং পুরো জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই এসব ঐতিহাসিক স্থাপনার যথাযথ সংরক্ষণ ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা জরুরি।”
১২৪ বার পড়া হয়েছে