সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির সঙ্গে স্থানীয়দের যৌথ নজরদারি
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ ৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের একাধিক ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে টহল ও নজরদারিতে অংশ নিচ্ছেন।
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সীমান্তের বিভিন্ন ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে একত্র করে গাড়িযোগে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
দৌলতপুর ও গাংনী সীমান্ত মিলিয়ে প্রায় ৮২ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় তারা বিজিবির পাশে থেকে নিয়মিত সহযোগিতা করছেন। দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা স্থানীয়ভাবে সতর্ক অবস্থানে আছেন এবং নিয়মিত মাইকিং ও টহল কার্যক্রমেও সহায়তা করছেন।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, একাধিকবার পুশ-ইনের চেষ্টা হলেও প্রতিবারই তা প্রতিহত করা হয়েছে। সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় জনগণ বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
১৯১ বার পড়া হয়েছে