সর্বশেষ

সারাদেশ

তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা
স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা

সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সব ধরনের প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এ সময় জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালী থেকে শুরু করে পর্যটক—কেউই সুন্দরবন-এ প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।

বন বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই তিন মাসে কোনো ধরনের পাস বা পারমিট ইস্যু করা হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ বনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়টি সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া চলমান থাকে এবং নতুন উদ্ভিদের চারা গজানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও এ সময় বনকে সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

তাদের মতে, নৌযান চলাচল ও মানব উপস্থিতি কমে গেলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ নির্বিঘ্ন হয়, ফলে প্রজনন হার বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ভারসাম্য উন্নত হয়।

তবে এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সুন্দরবননির্ভর হাজার হাজার জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী পরিবার। তাদের অভিযোগ, বছরের এই তিন মাস আয় বন্ধ হয়ে গেলে সংসার চালাতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকেই ঋণ ও দাদনের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সরকারি সহায়তা ছাড়া এই সময়টা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কাঁকড়া শিকারি রজব আলী বলেন, বন বন্ধ থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়, ধারদেনা ছাড়া উপায় থাকে না।

একই এলাকার শেফালী বিবির মতে, নদীতে নামা বন্ধ থাকলে পরিবারের জীবিকা পুরোপুরি থেমে যায়, যা টিকে থাকা কঠিন করে তোলে।

বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের জেলে আব্দুস সালাম জানান, এই সময়ে বাজার খরচ, ঋণের কিস্তি ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে তাদের চরম হিমশিম খেতে হয়।

এদিকে পর্যটন খাতও এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জে পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় ২৫০টি ট্রলার এ সময় বন্ধ থাকবে, ফলে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক ও শতাধিক ট্রলার মালিক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

পর্যটন নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের মতে, দীর্ঘ সময় ট্রলার বন্ধ থাকায় আয় প্রায় শূন্যে নেমে আসে এবং বহু পরিবার সংকটে পড়ে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ সময় কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে কঠোর নজরদারি চলবে যাতে বনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকে।

১৬৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন