আগৈলঝাড়ায় আয়রন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজ নির্মাণের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এমনকি ব্রিজের ঢালাইয়ের দিন সিমেন্ট নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ব্রিজে বাঁশ ব্যবহারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও উপজেলা এলজিইডি বিভাগ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ব্রিজ নির্মাণে প্রতি ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৬ ইঞ্চি প্রস্থে রড ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার ১ ফুট পরপর রড বসিয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে ঠিকাদার ৫টি রড এনে কাজ চালিয়ে যান। সিমেন্টের ঘাটতি থাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট কিনে এনে ব্রিজের উত্তর পাশে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা জানান, ব্রিজটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হলেও ঢালাই দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৫ ফুট। তারা আরও অভিযোগ করেন, ব্রিজ নির্মাণের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
এদিকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা বলেন, “বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫ ফুট ব্রিজের বাইরের অংশে। এটি আমি করিনি, স্থানীয়রা করেছে।”
রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ঢালাইয়ের জন্য আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “ব্রিজের ঢালাইয়ের বিষয়ে আমাদের বিভাগকে কেউ অবহিত করেনি। এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে এ ধরনের কাজ করা নিয়মবহির্ভূত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১৬৩ বার পড়া হয়েছে