সর্বশেষ

জাতীয়

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল পাস, আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিধান অন্তর্ভুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদ বুধবার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরিত করতে 'সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল' পাস করেছে।

বিলে অধ্যাদেশের মূল বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো ব্যক্তি বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল না। তখন বলা হতো, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী আনা হলে সত্তার সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এই সময় আপত্তি জানিয়ে বলেন, “বিলের একটি তুলনামূলক শিট আমরা মাত্র তিন-চার মিনিট আগে পেয়েছি, পুরো পড়ার সুযোগ পাইনি। এটি স্পর্শকাতর আইন, তাই পাসের আগে আমাদের আরও সময় দেওয়া হোক।”

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জবাবে বলেন, “আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ছিল, সেই সময়ে আপত্তি করা হতো, তবে এই পর্যায়ে আর আপত্তি গ্রাহ্য নয়।” বিরোধী নেতা পুনরায় বলেন, “দুঃখজনকভাবে শিটটি মাত্র হাতে পেয়েছি।” স্পিকার উল্লেখ করেন, “বিলের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই।”

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের জন্য এটি আনা হয়েছে। পূর্বে বিরোধী দল ও এনসিপি মিলে আন্দোলন চালিয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই কারণে সংশোধনীর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসাথে নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। পরবর্তীতে আইসিটি অ্যাক্টেও সংশোধনী আনা হয়েছে।”

বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।

বিলের মূল বিষয়বস্তু: 

কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে তাকে তালিকাভুক্ত বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে।
উক্ত সত্তা বা তার পক্ষে/সমর্থনে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ, গণমাধ্যমে প্রচারণা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন, জনসভায় বক্তৃতা প্রদান সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল করা হয় এবং ১৬টির জন্য পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়। পাস হওয়া ১৫টি বিলের মধ্যে একটি ছিল সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

আজকের পাস হওয়া বিলের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

১৫৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন