রংপুরে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, ৪ শিশু আইসোলেশনে
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ৫:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর অঞ্চলে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তাদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ৩ দিনে ৫ শিশু নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান হামে ৪ শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংখ্যা মাত্র ১০টি, ফলে হামসহ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। সেই সাথে অন্যান্য গুরুতর রোগীরাও আইসিইউ সেবা পাচ্ছেন না। এর ফলে গত ১৫ দিনে আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসা না পাওয়ায় ৩৫ জন রোগী মারা গেছে।
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক শিশু আসলে হামে আক্রান্ত। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪ শিশু হামে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের শিশু ওয়ার্ড থেকে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর আসে, এরপর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর আক্রান্ত শিশুরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে র্যাশ বের হয়। প্রথমে চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করতে পারতেন না, তবে শরীর থেকে র্যাশ বের হলে হামে আক্রান্ত হওয়া নিশ্চিত হয়।
আক্রান্ত ৪ শিশু বর্তমানে অনেকটা সুস্থ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে তারা আশঙ্কা মুক্ত নয় বলে মনে করছেন।
সরেজমিন মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের প্রবেশ পথের পাশে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সেখানে ৪ শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশফাক জানিয়েছেন, হাম যেহেতু সংক্রামক রোগ, তাই শিশু ওয়ার্ডে অন্যান্য শিশুর সঙ্গে তাদের না রেখে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের ২৪ ঘণ্টা পরিচর্যা ও দেখভাল করা হচ্ছে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা রজ্ঞিত রায় জানান, ২৫ মার্চ তার দেড় বছরের শিশু প্রজ্ঞার হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। প্রথমে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে র্যাশ দেখা দিলে চিকিৎসকরা হামে আক্রান্ত বলে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করেন। ২ দিন আগে তার শিশুর হার্ট ফেল করার ঘটনা ঘটলেও চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে শিশু এখন কিছুটা সুস্থ। তবে আশঙ্কা এখনও রয়েছে।
একইভাবে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ২ বছরের শিশু আরাফাতের মা জয়নব বেগম জানান, তার ছেলের অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। কয়েক দফা জ্ঞান হারানোর পর শনিবার থেকে তিনি হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।
লালমনিরহাট জেলা শহরের মিশন মোড় বালাটারি থেকে ৮ মাসের শিশু মিশু আমাতুল্লা জান্নাতের বাবা আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, ৫ দিন ধরে হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা চলছে। শ্বাসকষ্ট কমছে না এবং চিকিৎসকরা বলেছেন, অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
রংপুরের ভুরারঘাট সিলিমপুর গ্রামের এক বছরের শিশু সাইয়ামকে নিয়ে ভর্তি আছেন তার বাবা আইয়ুব আলী। তিনি জানিয়েছেন, তার শিশু এখনও অসুস্থ। তবে ৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকলেও তাদের চিকিৎসা ভালোভাবে হচ্ছে। হাসপাতালে পরিচালক ও বড় বড় ডাক্তাররা আসেন খোঁজখবর নেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে মাত্র ১০টি বেড রয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের সিসিইউতে চিকিৎসা প্রয়োজন হলে তা যে কোন মুহূর্তে জরুরি হতে পারে। রোগীর স্বজনরা বেড সংখ্যা বাড়ানো খুবই জরুরি বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও সর্দি নিয়ে শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত ৩ দিনে ৫ শিশু নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তবে তাদের মধ্যে হামে আক্রান্ত শিশু ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গার অভাবে একেকটি বেডে ২-৩ জন শিশুকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, হাম রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। ৪ শিশুকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো বয়স্ক ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়নি। তবে তাদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে এবং আইসিইউ সহ সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে