মোংলায় হাসপাতালে ডাক্তারের ওপর হামলার নেপথ্যের কারণ কি
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার ভোরের এই ঘটনার পর থানায় মামলা দায়েরের পর জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে বিষপান করা এক রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তাঁর স্বজনরা। এ সময় জরুরি বিভাগে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অনুপম মজুমদারের সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে স্বজনরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং জরুরি বিভাগে ভাংচুর চালান।
হামলাকারীরা কক্ষের ভেতরে থাকা চেয়ার ও কাঠের টুল তার দিকে এলোপাতাড়ি ছুঁড়ে মারেন। এতে আহত হন চিকিৎসক। জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ওই চিকিৎসক। আহত ওই চিকিৎসককে হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে রবিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসক অনুপম বাদি হয়ে মোংলা থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনসহ একটি মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোঃ হাফিজুর রহমান মানিক হোসেন (৩৭) নামের একজনকে আটক করেছে। পরে দুপুরে তাকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
হাসপাতালে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী তারেক বিন সুলতান মুছাফির বলেন, “আমি ৩ দিন ধরে হাসপাতালে মায়ের সাথে আছি। মা অসুস্থ। ফজরের নামাজ পড়তে যাব, সে সময় নিচে জরুরি বিভাগে সামনে হট্টগোল দেখি। একজন বিষপান রোগী আসে। স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডাকা ডাকি করে। অন্য রুমে ঘুমে ছিল চিকিৎসক। অনেক সময় পর পাশের রুম থেকে এসে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে জরুরি বিভাগে ঢুকে মোবাইলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমি রোগীর সাথে থাকা দুইজনকে দেখেছি রোগীর চিকিৎসা দিতে। তখন পাশে কোন চিকিৎসক বা হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কেউ ছিল না। পরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে মোবাইলে ব্যস্ত ওই ডাক্তারকে নিয়ে তর্কবিতর্ক করেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোগীরা আসে চিকিৎসা নিতে ডাক্তার মূল্যায়ন করেন না। আমি ডিউটি অবস্থায় কোন ডাক্তারকে পাশে দেখিনি। ডাক্তারদের আরও সচেতন হওয়া দরকার রোগীদের প্রতি।”
তবে অভিযুক্তদের একজন সজীব মিয়া শান্ত দাবি করেছেন, “মুমূর্ষু রোগী ফেলে রেখে চিকিৎসক মোবাইলে ব্যস্ত ছিলেন এবং চিকিৎসার অবহেলার কারণেই সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিন এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের ভেতরে এমন সহিংসতা স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং এটি কর্মী ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করা হচ্ছে যাতে প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসে।”
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোংলা থানার উপপরিদর্শক মোঃ মহররম আলি জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে এক অভিযুক্তকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও আটক করার চেষ্টা চলছে।”
১৭৪ বার পড়া হয়েছে