দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের আলোচনা সভা
জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিজরী ক্যালেন্ডারে ঈদ পালন বৈধ নয়
বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পুরাতন ঢাকার আজিমপুরে জ্যোতির্বিজ্ঞান বা হিজরী ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালনের বিরোধিতা করে জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১১টায় -এর উদ্যোগে মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের পরিচালক ও মসজিদের খতিব । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ।
সভায় মূল বক্তব্যে মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কোরআন ও সহিহ হাদিসে চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদ পালনের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, “জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিজরী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রোজা-ঈদ পালন করলে চাঁদ দেখার প্রয়োজনীয়তা থাকে না, যা ইসলামের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিনি আরও বলেন, নবী (সা.)-এর যুগে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ধারণা একেবারেই ছিল না—এমন দাবি সঠিক নয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নবীজির জন্মের আগেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা ছিল। তবুও নবী (সা.) চাঁদ না দেখা গেলে মাস ৩০ দিন পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, জ্যোতির্বিদদের হিসাবের ওপর নির্ভর করার কথা বলেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর সময় মুসলিম বিশ্ব বিস্তৃত হলেও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের ভিত্তিতে রোজা-ঈদ পালনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ থেকেই বোঝা যায় ইসলামে চাঁদ দেখার বিধানই প্রাধান্য পেয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও দাবি করেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব সব সময় শতভাগ নির্ভুল নয়। উদাহরণ হিসেবে তারা সাম্প্রতিক রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে তারতম্যের কথা উল্লেখ করেন। তাদের মতে, চাঁদ না দেখে কেবল ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে রোজা ও ঈদ পালন করা শরিয়তসম্মত নয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন, “ইসলাম স্পষ্টভাবে চাঁদ দেখার কথা বলেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি বাইজিদ বিন আনাস, মুফতি ইউশা শফিকী, মুফতি মহিউদ্দিনসহ দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা।
দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়ার মাধ্যমে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
১৪২ বার পড়া হয়েছে