সর্বশেষ

জাতীয়

গুম-খুনের অভিযোগে বিতর্কিত রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী এখন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান!

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গুম, খুন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সাবেক মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বর্তমানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (পার্সোনেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা বিতর্কে জড়ালেও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা সভায় রিয়ার অ্যাডমিরাল এরশাদ আলী উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তিনি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলন দমনে কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্দেশনা দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের সময় সেন্টমার্টিন এলাকায় কোস্টগার্ড সদস্যদের গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বিএনপি ও জামায়াতসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মামলার ভয়ে এখনো অনেক সেন্টমার্টিনবাসী পলাতক জীবনযাপন করছেন। ওই সময় জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়ম সংঘটিত হয়। তখন নৌ অপারেশন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মীর এরশাদ আলী। একই সময়ে নৌ গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ সোহায়েল, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর বাসভবনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রিয়ার অ্যাডমিরাল এরশাদের উপস্থিতির কথাও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সে সময় তিনি মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী শারমিন এরশাদ গান পরিবেশন করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


নৌবাহিনীর ভেতরে দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল ও মীর এরশাদ আলী। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌবাহিনীর কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে গড়ে ওঠা ওই সিন্ডিকেট বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে সিনিয়র কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে মীর এরশাদ আলী কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পান। কোস্টগার্ডের জন্য নতুন জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ এনে সেখান থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বউকে ব্যবহার করেও তিনি নানা তদবির বাণিজ্য করেছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এরশাদ আলীর বউ শারমিন এরশাদও বাগিয়ে নেন ক্রেস্ট। 

মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে। সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগসাজশে টাগবোট সরবরাহকারী একটি কোম্পানিকে আগাম অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এখনো ওই টাগবোট মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বুঝে পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া বিদেশ সফর, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও নারীসংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়ও তিনি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে বিদেশে পালাতে সহায়তা করার নির্দেশ দেন তিনি। তবে পরে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে আটক করার ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে প্রচারিত সংবাদে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সাবেক মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

১৮৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন