সর্বশেষ

সারাদেশ

আলফাডাঙ্গার জামদানি পল্লীতে ঈদে কারিগরদের ব্যস্ত সময়

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার একমাত্র জামদানি পল্লীতে দিন-রাত কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

যেন এক মুহূর্ত দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। কেউ কাপড়ে সুতা তুলছেন, কেউ সুতা রঙ করছেন, কেউ শাড়ি বুনছেন, আবার কেউবা শাড়িতে সূক্ষ্ম নকশার কাজ করছেন। এভাবেই চলছে কারিগরদের ব্যস্ততা।

ফরিদপুর শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের মধুমতী নদীর তীরবর্তী পানাইল গ্রাম। এই গ্রামেই ২০২১ সালে সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে রেশমি সুতার জামদানি শাড়ির কারখানা গড়ে তুলেছেন উদ্যমী তরুণ মোস্তফা রহমান। বর্তমানে তার কারখানায় ছয়টি তাঁত রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি তাঁতে দুইজন করে মোট ১২ জন কারিগর এখন নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন।

তাঁত মালিক মোস্তফা রহমান জানান, দুইজন কারিগর প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা শ্রম দিলে নকশাভেদে একটি শাড়ি তৈরি করতে সাত থেকে দশ দিন সময় লাগে। তবে বেশি নকশার শাড়ি এক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সুতার মান ও কাজের ধরন বিবেচনায় একেকটি জামদানি শাড়ির দাম নূন্যতম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ঈদ উপলক্ষে বর্তমানে শাড়ির পাশাপাশি জামদানি দিয়ে পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস পোশাকও তৈরি হচ্ছে। শৌখিন ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো নকশা করা শাড়ি ঈদের কয়েক মাস আগেই অর্ডার করেছেন। বিক্রির মাধ্যম হিসেবে তারা সরাসরি পাইকারি ও খুচরা বিক্রির পাশাপাশি ই-কমার্স ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন। অনলাইনে অর্ডার পাওয়া শাড়িগুলো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। এবারের ঈদে কমপক্ষে অর্ধশত শাড়ির অর্ডার পেয়েছেন এবং প্রায় সব অর্ডার পাঠাতে পেরেছেন।

এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কারিগররা এতটাই ব্যস্ত সময় পার করছেন যে, তাদের যেন একটু ফিরে তাকানোর সময় নেই। কারখানার শ্রমিক কানাইপুরের ইমন মাতুব্বর (২২) বলেন, “এখানে তিন বছর ধরে জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ করছি। সামনে ঈদ। বেতন-বোনাস নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাব। ঈদে যাতে বেশি শাড়ি বুনতে পারি, এ কারণে দিন-রাত মিলিয়ে সমান তালে কাজ করছি।”

কারখানার অপর কারিগর চাপুলিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম (২৮) বলেন, “আমি এখানে চার বছর ধরে কাজ করছি। অন্য সময়ের চেয়ে ঈদের সময় অর্ডার বেশি থাকে, তাই কাজের চাপও বহুগুণ বেড়ে যায়। আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতাম। কিন্তু এখন কাজের চাপে সকাল সাতটা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।”

টগরবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, “মোস্তাফিজুর আমাদের এলাকার গর্ব। তার তৈরি জামদানি শাড়ি নারীদের কাছে প্রিয়। আমার প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এলাকায় জামদানি শাড়ি তৈরির একটি স্থায়ী কেন্দ্র গড়ে উঠুক।”

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী কারখানাটি পরিদর্শন করে জানান, “গ্রামীণ জনপদে রেশমি সুতার এমন সূক্ষ্ম কারুকার্য সত্যিই প্রশংসনীয়। কুটির শিল্পের প্রসারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করা হবে।”

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন