ইরানে মার্কিন-ইসরাইয়েল হামলা বন্ধের দাবিতে মাগুরায় বিক্ষোভ সমাবেশ
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে চট্টগ্রামের চৌরঙ্গী মোড় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী শম্পা বসু।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে নৃশংস ও সুপরিকল্পিত সামরিক হামলা চালিয়েছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক ও ধর্মীয় নেতারা নিহত হয়েছেন। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের মৌলিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সংকটের প্রকাশ। মার্কিন একচেটিয়া পুঁজিবাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল-সমৃদ্ধ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ ও বাজার রক্ষার স্বার্থে এই হামলা চালিয়েছে। লেনিনের ভাষায়, সাম্রাজ্যবাদ যতদিন থাকবে, যুদ্ধও ততদিন থাকবে।
তাদের বক্তব্যে বলা হয়, সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে এবং বর্তমান সামরিক উত্তেজনা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে বাস্তব হিসেবে উপস্থাপন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় গণহত্যা, লেবাননে সামরিক অভিযান এবং ইরানে আগ্রাসন— সব মিলিয়ে বৈশ্বিক সামরিক সংঘাতের দিকে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ ইরানি জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলো ‘গণতন্ত্র’ ও ‘মানবাধিকার’ নামের আড়ালে অন্য দেশের সম্পদ লুট ও কৌশলগত আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা করছে। তারা উদাহরণ হিসেবে ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তান ও সিরিয়ার করুণ পরিণতি তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন অবস্থান গ্রহণ করুন। জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। এছাড়া, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় স্বাধীন ও জনবান্ধব পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের।
নেতৃবৃন্দ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ গোপনভাবে আমেকির সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিও জানান।
১২২ বার পড়া হয়েছে