স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ময়মনসিংহ রেল বিভাগে
শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ ৫:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ময়মনসিংহ রেল বিভাগে তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এখনও ব্রিটিশ আমলের পুরোনো অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করেই চলছে রেলসেবা। পুরাতন রেললাইন, বগি ও ইঞ্জিনের কারণে প্রায়ই ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া কিংবা ইঞ্জিন বিকলের মতো ঘটনা ঘটছে। ফলে অনেক যাত্রীই ধীরে ধীরে ট্রেন ভ্রমণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সড়কের যানজট এড়াতে, কম খরচে ও তুলনামূলক নিরাপদ যাতায়াতের জন্য অনেকেই ট্রেনকে বেছে নেন। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোণার সঙ্গে সহজ রেল যোগাযোগ থাকায় ঈদ মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করেন। কিন্তু যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও ময়মনসিংহ রেল বিভাগে সেবার মান তেমন বাড়েনি।
রেলওয়ের অবকাঠামোর বেশিরভাগই এখনও ব্রিটিশ আমলের। পুরোনো রেললাইন, বগি ও ইঞ্জিন দিয়েই চলছে ট্রেন চলাচল। অনেক স্টেশনে যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও টয়লেট সুবিধার অভাব রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, টিকিট কালোবাজারি এবং সব রুটে ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের আগ্রহ কমছে।
ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে ফাতেমানগর, আওলিয়ানগর ও ধলা সহ বেশ কয়েকটি শতবর্ষী রেলস্টেশন রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব স্টেশনের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে স্টেশনগুলো অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
নেত্রকোণার যাত্রী আহাদ শেখ বলেন, “একটি ভবন নির্মাণ আর প্লাটফর্ম উঁচু করা ছাড়া এই স্টেশনে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বসে একটু বিশ্রাম নেওয়ারও সুযোগ নেই। প্লাটফর্মের জায়গা দখল করে দোকানপাট বসে যাওয়ায় জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে গেছে।”
জামালপুরগামী তিস্তা এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী বিলকিস খাতুন বলেন, “স্টেশনে পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। এতে নারীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। স্টেশনগুলোতে নারীদের জন্য আলাদা সুবিধা থাকা প্রয়োজন।”
আরেক যাত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, “ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেনে যাতায়াত করতে গেলে দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায়ই বগি বা ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। কখনও ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। এতে আমরা আতঙ্কে থাকি। ইঞ্জিন সংকটের কারণে অনেক ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রেন বাড়ানোর বদলে কমে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।”
রিফাত শিকদার নামে আরেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “অনলাইনে টিকিট পাওয়া গেলেও ওয়েবসাইটে ঢুকলেই দেখা যায় প্রায় সব টিকিট শেষ। আমরা টিকিট পাই না। স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় একটি চক্র আগেই টিকিট কেটে কালোবাজারিতে বেশি দামে বিক্রি করে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ময়মনসিংহের অনেক স্টেশন দিন-রাতই অনিরাপদ। সন্ধ্যার পর এসব জায়গা অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় প্রায়ই চুরি-ছিনতাই ঘটে। পরিত্যক্ত বগিতে চলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেশার আসর।”
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, “ঈদযাত্রা সামনে রেখে স্টেশন ও ট্রেনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্লাটফর্মে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। চুরি-ছিনতাই ও টিকিট কালোবাজারি রোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, “ময়মনসিংহের রেললাইন অনেক পুরোনো হওয়ায় মাঝে মাঝে ভেঙে যায় এবং লাইনচ্যুতির ঘটনাও ঘটে। তবে ঈদযাত্রায় যাতে যাত্রীরা দুর্ভোগে না পড়েন সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের উন্নয়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
বর্তমানে ময়মনসিংহ রুটে ২৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। রেলসেবার সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহের যাত্রীরা।
১২০ বার পড়া হয়েছে