মোংলায় পাশাপাশি ৯ কবর: একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা শেষে দাফন
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪ জনের মধ্যে মোংলায় একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি ৯টি কবরে দাফন করা হয়। নিহতদের মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মোংলায় আনা হয়। গোসল সম্পন্নের পর শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে মরদেহগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়।
অন্যদিকে, কনের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলায় নিহত কনে, তার বোন, নানী ও দাদিসহ চারজনকে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাস চালককে রামপাল উপজেলার তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি স্টাফবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও কয়েকজন মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য। তারা হলেন—আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, মেয়ে ঐশী, পুত্রবধূ পুতুল বেগম এবং চার নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ।
শুক্রবার ভোরে নববর সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ সদস্যের মরদেহ মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকার নিজ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপির নেতাকর্মী ও স্বজনদের উপস্থিতিতে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়া সরকারিভাবেও অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
জানাজায় মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মোংলা-খুলনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুর্ঘটনার পর খুলনা–মোংলা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বাস দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাগেরহাট ও মোংলা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৩৭৫ বার পড়া হয়েছে