তামাবিলে প্রতিদিন ৩৩ লাখ রাজস্ব লুট, টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে
শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ ৫:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বেশ কিছুদিন ধরেই সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে কয়লা ও পাথর আমদানিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
সূত্র জানায়, এই বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ভারত থেকে প্রায় ৭০০টি পাথরবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ২৬ মেট্রিক টন পাথর আমদানি করা হচ্ছে। অথচ বন্দরে প্রবেশকৃত ৬ চাকার প্রতিটি গাড়ির নিজস্ব ওজন ধরা হয় ৯ টন এবং শুল্ক প্রদান করা হয় মাত্র ১২ মেট্রিক টনের। অর্থাৎ ১২ টন পণ্য ও ৯ টন গাড়ির ওজন মিলিয়ে মোট ২১ টনের হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে আসছে প্রায় ২৬ টন পাথর।
ফলে প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত থাকা ৫ মেট্রিক টনের শুল্ক হারাচ্ছে সরকার। পাথরের শুল্ক হার প্রতি মেট্রিক টনে ৭৭০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন ৭০০টি ট্রাকে অতিরিক্ত ৫ টন করে মোট ৩,৫০০ মেট্রিক টন পাথরের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিদিন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, প্রতিদিন প্রায় ৩০টি কয়লাবাহী ট্রাকও এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি টন কয়লার শুল্ক হার ৪,০৫০ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ৫ মেট্রিক টন করে অতিরিক্ত কয়লা আনা হচ্ছে। ফলে ৩০টি ট্রাকে মোট ১৫০ মেট্রিক টন কয়লার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিরিক্ত এই ৫ টনের ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে না গিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ সরকারি দায়িত্বে থেকে বেতনে সন্তুষ্ট নন, কেউ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেও তামাবিল এলাকায় গড়ে তুলেছেন বাড়িঘর। আবার কেউ দলীয় নীতিমালা অমান্য করে এই রাজস্ব লুটপাটে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে