প্যারোলে মুক্তি পেয়েও বাবার জানাজা পেল না কয়েদী ছেলে
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় কারাগারে থাকা যুবলীগ কর্মী চঞ্চল মিয়া বাবার দাফনে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেও সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় জানাজার নামাজে অংশ নিতে পারেননি।
পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে দাফনে অংশ নেন তিনি।
জানা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা যান। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম রবিবার সকালে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। পরে কর্তৃপক্ষ চঞ্চল মিয়াকে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলখানায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি প্রায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কারাগার থেকে মুক্তি পান।
পরে পুলিশি পাহারায় তাকে বিকাল ৩টার দিকে কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এর আগেই জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যায়। এরপর হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে চিত্রাপাড়া কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যান চঞ্চল মিয়া। দাফন শেষে বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে আবার গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে চঞ্চল মিয়া বলেন, “আমি বাবার এক হতভাগ্য ছেলে। মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তাঁর পাশে থাকতে পারিনি। এমনকি জানাজার নামাজেও অংশ নিতে পারলাম না।” তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে তার বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ভূতের গলি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, তার স্বামী নিরপরাধ এবং দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে কারাগারে থাকার কারণে তিন কন্যা সন্তান নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি স্বামীর মুক্তির দাবি জানান।
কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার বলেন, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশি পাহারায় চঞ্চল মিয়াকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। তিনি বাবার দাফনে অংশ নেওয়ার পর আবার তাকে জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে