কক্সবাজার নিখোঁজ নারীর মরদেহ লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ৩:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিখোঁজ হওয়া এক নারীর মরদেহ চার দিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধ অনুভূত হওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজন ও সেবা প্রার্থীরা।
নিহত কোহিনুর আক্তার (৩০) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব টাইপালং এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল আলমের স্ত্রী।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ৩ মার্চ কোহিনুর আক্তারের ছয় বছর বয়সি মেয়ে মরিয়ম আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছিল। ওই সময় মা ও মেয়েও হাসপাতালেই ছিলেন।
পরদিন ৪ মার্চ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কোহিনুর আক্তার ওষুধ আনার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনায় তার শ্বশুর আলী আকবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজের সময় কোহিনুর আক্তার থ্রিপিস ও কালো রঙের বোরকা পরিহিত ছিলেন। তার গলায় স্বর্ণের একটি নেকলেস ছিল। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন।
নিহতের ভাইপো আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমার চাচিকে চার দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা নানা মাধ্যমে তাকে খুঁজছিলাম। র্যাব ও পুলিশকে জানানো হয়েছিল। আজ হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, নিখোঁজের দিন তিনি চারতলার লিফটে প্রবেশ করেন। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। লিফটে দুর্ঘটনা হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং নিও বলেন, “লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ পাওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে মরদেহটির সন্ধান পাওয়া গেছে। কীভাবে তিনি সেখানে পড়লেন বা ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তে পুলিশকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছে।”
এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর সরকারি হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
সেবা নিতে আসা কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীর বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, “চার দিন ধরে একটি মানুষের মরদেহ লিফটের নিচে পড়েছিল, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা জানতে পারেননি। এটি চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার অংশ।”
চিকিৎসা নিতে আসা খরুলিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, “এ ঘটনার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। লিফটের ত্রুটি যাচাই ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না। সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালাচ্ছিল। পরে লিফটের গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কোহিনুর আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে। লিফট ত্রুটিপূর্ণ ছিল কিনা বা অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০৫ বার পড়া হয়েছে