মুকসুদপুরে নিলু মুন্সি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ২:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিলু মুন্সি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কমলাপুর স্ট্যান্ডে মুকসুদপুর-বড়ইতলা সড়কে দাঁড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কমলাপুর গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে হাতে হাত ধরে বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
মানববন্ধনে নিহত নিলু মুন্সির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কমলাপুর গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম, ছেলে রবিন মুন্সিসহ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
নিহতের ছেলে রবিন মুন্সি বলেন, তার বাবা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বরং পুলিশ হত্যাকারীদের সহযোগিতা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিহতের স্ত্রী জোবায়দা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী কোনো অপরাধ করেননি। তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি স্বামীর হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় নিহতের বাবা আনোয়ার মুন্সিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, একজন বাবার জন্য সন্তানের মৃত্যু সহ্য করা সবচেয়ে কষ্টের। তিনি সরকারের কাছে ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কমলাপুর গ্রামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ার মুন্সি গ্রুপ ও নূর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিলু মুন্সি নিহত হন এবং উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে